আন্দোলনের নামে অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্বৃত্তায়ন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ হলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বার কাউন্সিলের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন এবং রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি, জামায়াত এবং আরও অনেকেই মাঠে নামতে চায়। আন্দোলন করুন, আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। কিন্তু তারা যদি আবার ওই রকম অগ্নিসন্ত্রাস, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করে আমরা কিন্তু ছেড়ে দেবো না। এটা বাস্তবতা।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিচার দ্রুত শেষ করতে আইনজীবীসহ সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, এরা এত অন্যায় করেছে। এদের বিচারকাজ কেন দ্রুত হবে না। এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে। কারণ অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে এরা বাড়বে।
তিনি বলেন, এদের অনেকে আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল এখন আন্দোলনের সুযোগ সামনে আসছে। আমরা তাদের বাধা দিচ্ছি না। এই অপরাধীরা যাতে যথাযথ সাজা পায় সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারহীনতা যেন না চলে, ন্যায়বিচার যেন মানুষ পায়।
আইনজীবী ও বিচারকের ওপর বিএনপি-জামায়াতের হামলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিএনপি-জামায়াত এদেশে মানুষের ওপর আক্রমণ করে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তাদের লেলিয়ে দেয়। অবশ্যই তাদের বিচার বাংলাদেশে হতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সারা বিশ্বব্যাপী কিছু মন্দাভাব যাচ্ছে। তার হাত থেকে বাংলাদেশও রেহাই পায়নি। তবে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, স্যাংশন-পাল্টা স্যাংশন, সেই সঙ্গে নতুন করে ফিলিস্তিনের ওপর হামলা হয়েছে। হাসপাতালে হামলা করে নারী-শিশুদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এর ফলে আবারও বিশ্বব্যাপী তেল ও জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি বলেন, অনেকে রিজার্ভ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। অথচ জাতির পিতা ১৯৭২ সালে যখন শাসনভার হাতে নেন কোনো রিজার্ভ মানি ছিল না। কোনো মুদ্রা ছিল না, খাদ্য ছিল না।
সরকার প্রধান বলেন, জাতির পিতার হাত ধরে বাংলাদেশের বিচার কাঠামোর গোড়াপত্তন ঘটে। জাতির পিতা আইনজীবীদের কল্যাণ ফান্ড করে দিয়ে যান। জাতির পিতা আমাদের যে পদক্ষেপ দিয়ে গেছেন সেই পথ ধরে আমরা চলি।
তিনি বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার পর বেইমান মুনাফিক খন্দকার মোশতাক জিয়াউর রহমানের সহায়তায় ক্ষমতা দখল করে, কিন্তু টিকতে পারেনি। পেছন থেকে যারা কলকাঠি নাড়ায় তারা বেইমানদের ব্যবহার করে, রাখে না। মোশতাককে বিদায় নিতে হয়। আসল চেহারা বেরিয়ে আসে জিয়াউর রহমানের। একাধারে সেনাপ্রধান সঙ্গে সঙ্গে আবার নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেয়। জিয়াউর রহমান জনগণের ভোট চুরি করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ধ্বংস করে, এরপর দল গঠন করে। জনগণের ভোট কারচুপি করে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দিয়ে সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আইনের শাসন, বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিটি মানুষ যাতে পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। বিচার ব্যবস্থার মান উন্নয়নে আমরা অবকাঠামোগত উন্নয়ন করি।
তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল বাংলাদেশ ছিল সন্ত্রাসীদের দেশ। জঙ্গিদের দেশ, দুর্নীতির দেশ। দুর্নীতির দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। তারা দেশের অর্থপাচার করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাকে বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। দমে যাওয়ার না। নিজের জীবনের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে রাজনীতি করি না। রাজনীতি করি এদেশের মানুষের জন্য। কাজেই আমার সংগ্রাম আমি চালিয়ে যাই।’
তার সরকার সব জেলায় আইনজীবীদের জন্য ভবন নির্মাণ করে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী এবং এজন্য তিনি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ফান্ড গঠনেরও আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুডিশিয়ারি যাতে স্মার্ট হয় সেজন্য প্রতিটি আইন ডিজিটালাইজড করা, রায়গুলো ডিজিটালাইজড করা, ইংরেজি রায়গুলো যাতে বাংলায় অনুবাদ যাতে হয়, সেটা যেন অনলাইনে মানুষ যাতে দেখতে পারে- সেটা চাই।
প্রধানমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এই দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান প্রত্যেকে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। এক্ষেত্রে কেউ কারও ধর্মের ওপর আঘাত হানবে না।