যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে, এবারের নির্বাচনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা হবে না বলে মনে করেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। তিনি জানান, সরকারের সঠিক পদক্ষেপের কারণে এবার দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ হবে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে, সংখ্যালঘুদের নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ। নির্বাচনের আগে-পরে যাতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোন নির্যাতন না ঘটে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনসহ সরকারের নানা দপ্তরের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে।
তবে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতিকে সংখ্যালঘুদের জন্য সহায়ক বলে মনে করছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত। তার মতে ভিসা নীতি সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে সংখ্যা লঘুদের ওপর কোন নির্যাতন হবে না।
নির্বাচন পনের দিন পর পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়ে, নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিকেও ইতিবাচক বলছেন তিনি।
তিনি জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে সংখ্যালঘু নাগরিকদের মানবাধিকার কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সেজন্য জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনকে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানা রানা।
তারপরও নির্বাচন প্রশ্ন দলগুলোর ঐক্যমত না হলে, পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে এ সংগঠনের। রানা বলেন, সংখ্যালঘুদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে একটি ঐকমত্য প্রয়োজন। ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে তারা উদ্যোগ নিয়েছেন।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা মনে করি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও উন্নতির লক্ষ্য ও তা অর্জনের জন্যে সামাজিক চুক্তি প্রয়োজন যা বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশের দাবি নিয়ে নভেম্বরে একটি মহাসমাবেশের ঘোষণাও দেন তিনি।
মাঠ পর্যায়ের সরকারের কঠোর বার্তা ও বিএনপির আন্দোলন পেছানোর কারণে এবারের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে বলেও মনে করেন রানা দাশগুপ্ত।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুর্গাপূজার সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। সরকার চাইলে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গিকার করা হয়েছে, আমরা এতে আস্থা রাখতে চাই।