যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথিত উপদেষ্টার মিয়ান আরাফি মিয়া জাহিদুল ইসলাম বেল্লাল কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে ঢাকার কূটনীতিকদের ব্রিফ করা হয়।
ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথিত উপদেষ্টার জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস (যোগাযোগ বা আলাপের জন্য অনুমতি) চেয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। আমরা এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিককে অবশ্যই কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার অধিকার সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
বিদেশি নাগরিক কারাগার বা হেফাজতে থাকলে কনস্যুলার কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করার, কথা বলা, চিঠিপত্রের এবং তার আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করার অধিকার পাবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা একাত্তরকে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথিত ওই উপদেষ্টার কনস্যুলার অ্যাক্সেস দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত মার্কিন দূতাবাসকে জানায়নি।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় দিনভর ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘাতের পর বিকেলে হঠাৎ করেই মিয়ান আরাফি নামের ওই ব্যক্তি নিজেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা হিসেবে দাবি করেন। তবে এই ব্যক্তির বিএনপি কার্যালয়ে যাওয়া এবং বক্তব্য রাখার বিষয়ে দায় নেয়নি দলটি। আর মার্কিন দূতাবাস বলেছে, তাদের কোন প্রতিনিধি সেখানে যায়নি।
দুই দফা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় কথিত মিয়ান আরাফি বিএনপির সমাবেশে পুলিশ নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শনিবার যা হয়েছে তার আগাগোড়া আমেরিকা জানে।
কথিত এই মার্কিন নাগরিক আরও হুঁশিয়ার দেন, বিএনপির সমাবেশ পণ্ড করার পেছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে স্যাংশন দেয়া হবে। এছাড়াও তিনি দেশের রাজনীতি ও সরকার নিয়েও নেতিবাচক কথা বলেন।
রোববার বিমানবন্দর থেকে মিয়ান আরাফি পরিচয় দেওয়া বেল্লালকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তাকে পরে ডিবিরে হাতে তুলে দেওয়া হয়। রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।