আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমার লক্ষ্য। যে দেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
একমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারই দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মর্যাদা পেয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এদেশে একটি মানুষও দারিদ্রের মধ্যে হবে না। কোনো মানুষ ভূমিহীন থাকবে না। আমাদের সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, তবে বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারকে ব্যর্থ করতে মাঠে নেমেছে। ওরা চায় না, দেশ উন্নত হোক। এজন্য আন্দোলনের নামে হরতাল-অবরোধ দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মানুষের ওপর নির্যাতন ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করছে তারা।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে তখন জনগণের উন্নয়ন হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় বিএনপি মানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিএনপি-জামায়াতের কাজই হচ্ছে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারা। মানুষ খুন তাদের একমাত্র গুণ। বিএনপি-জামায়াতের আর কোনো গুণ নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা দেখেছেন এই ২৮ অক্টোবর কীভাবে পুলিশকে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বেহুঁশ হয়ে গেছে তাও ছাড়েনি। তারপর কুপিয়েছে। ৪৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে। সাংবাদিকদেরও ছাড়েনি। সাংবাদিকদের তারা পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ স্টেশনে ঢুকে হাসপাতালে আক্রমণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স ভেঙেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে। কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স ভেঙেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী যাচ্ছে সেই অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করেছে। এদের মধ্যে এতটুকু মনুষত্ববোধ আছে বলে আমি মনে করি না।
শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে খুলনার শিল্প-কলকারখানা, মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিলো। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও মোংলা বন্দর চালু করেছে। পদ্মা সেতু করেছে, মোংলা পর্যন্ত রেললাইন গেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই জনগণের উন্নয়ন হয়। দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমরা করি উন্নয়ন আর বিএনপি-জামায়াত সব ধ্বংস করে দেয়।
খুলনাবাসীকে আরও উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা ও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে অনেক উন্নয়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারপরও আজ যেগুলো উদ্বোধন করা হলো সেগুলো খুলনাবাসীর জন্য উপহার। সামনে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও উন্নয়ন করবো আমরা।
বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভা মঞ্চে ওঠেন তিনি। এরপর ২২ প্রকল্পের উদ্বোধন ও দুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর আগে সকাল থেকে সার্কিট হাউজ মাঠে দলীয় নেতাকর্মীরা দলে দলে আসতে শুরু করেন। আগতদের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, দলীয় প্রতীক নৌকা দেখা গেছে। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সমর্থকদের বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে দেখা যায়। দুপুর হতেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও শেখ সারহান নাসের তন্ময়।