৯০ দেশকে নির্বাচনের প্রস্তুতি জানালো সরকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিশ্বের ৯০টি রাষ্ট্রকে জানিয়েছে বাংলাদেশ।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বের উদ্বিঘ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই, বরং উৎসবের মেজাজে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন হবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের নির্বাচন সরেজমিনে দেখে যাওয়ার জন্য দেশগুলোকে পর্যবেক্ষক পাঠানোরও অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এসব দেশের রাষ্ট্রদূত বা শীর্ষ কূটনীতিবিদদের নির্বাচনি পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। শনিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে এই ব্রিফিংয়ের কথা জানানো হয়।

এ ৯০টি দেশ হলো এমন দেশ, যাদের বাংলাদেশে সরাসরি কোনো দূতাবাস বা মিশন নেই, কিন্তু দিল্লিতে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতরাই বাংলাদেশ সংক্রান্ত ঘটনাবলি দেখে থাকেন। আর এরকমই প্রায় ৯০টি দেশের প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু হলে আয়োজিত সেই ব্রিফিংয়ে। 

মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকার ও গতিশীলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক সমসাময়িক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেন।

পররাষ্ট্রসচিব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।

এসময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে বিদেশি মিশন প্রধানদের অবহিত করেন পররাষ্ট্রসচিব। 

৯০ দেশের রাষ্ট্রদূতদের নির্বাচনের প্রস্তুতি জানালেন পররাষ্ট্রসচিব। ইমেজ: সংগৃহীত।

গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনকে একটি উৎসব হিসেবে দেখা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এই উৎসবকে আনন্দিত করার জন্য এবং তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের ভোট দিতে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।

মাসুদ বিন মোমেন এ অঞ্চল এবং এর বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাষ্ট্রদূতদের সমর্থন কামনা করেন।  

এছাড়াও ঢাকায় কূটনৈতিক মিশন খোলার বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মিশন প্রধানের তাদের নিজ নিজ সরকারকে অনুরোধ করারও আহবান জানান পররাষ্ট্রসচিব।

ব্রিফিং শেষে মাসুদ বিন মোমেন কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।