সব দলের অংশগ্রহণের চেয়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারলেই তাকে সফল বলা হবে বলে মন্তব্য করছেন বিশিষ্টজনরা। জানান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই যদি দলগুলোর মূল লক্ষ্য হয় তবে নির্বাচনের মাধ্যমেই তার প্রমাণ দিতে হবে। নির্বাচন প্রতিহত করে নয়।
শনিবার রাজধানীর বনানীতে ঢাকা আর্ট গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বিশিষ্টজনরা।
নির্বাচনে এবার নিবন্ধিত ৪৪টি দলের মধ্যে ২৯টি দল অংশগ্রহণ করছে। কিন্তু বিএনপি না আসায় তাকে অংশগ্রহণমূলক বলতে নারাজ অনেক দল এবং দেশ। দলগুলোর মধ্যে বিশ্বাসের অভাবই এর মূল কারণ বলছেন বিশিষ্টজনরা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের প্রতি ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়া বা একটা অনাস্থা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন যথাযথভাবে এটা যদি নিশ্চিত করতে পারে যে, এটা সঠিক একটা নির্বাচন হয়েছে, তাহলে এই নির্বাচনের টার্নআউটটা বিএনপি না আসার কারণে কিছুটা কম হবে কিন্তু অনেক হবে।
মানবাধিকারের নামে তৈরি পোশাক খাতের ওপর কোনো চাপ আসলে তারও যুক্তি দেবার দাবি জানান বিশিষ্টজনরা।
আলোচকরা বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া কতটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে তা নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। যেভাবেই হোক জনগণকে তাদের নেতৃত্ব বাছাই করার সুযোগ করে দিতে হবে।
দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ইমেরিটাস সম্পাদক ও এডিটর্স গিল্ডের প্রেসিডিয়াম সদস্য নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির অনেককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বিএনপির ঘোষণা কী? বিএনপির ঘোষণা হলো, তাদের একটি কর্মী জীবিত থাকা অবস্থায় আমরা এ নির্বাচন হতে দেবো না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নির্বাচন ভালো হলে সংসদ ভালো থাকবে, এটা আসলে ঠিক না।
ভোরের কাগজের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, সংকটটা শুরু হবে আবার নির্বাচনের পরে গিয়ে। যদি একটা ভালো নির্বাচন দিতে পারে তাহলে এ সংকট উৎরানো যাবে।
এডিটর গিল্ডের সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, কেউ যাতে ব্যালট স্টাফিং করতে না পারে, কেউ যাতে পক্ষ নিতে না পারে, আর কেউ যাতে ভোট দিতে গেলে তাকে আক্রমণ করতে না পারে। ভবিষ্যতটা অন্যরকম হবে। দলবাজি না, মানুষকে মানুষ নির্বাচন করবে মার্কা নয়।