এবার বাংলাদেশের আবহাওয়া পরিস্থিতি একেবারেই অস্বাভাবিক। তীব্র দাবদাহ, তিনটি ঘূর্ণিঝড় হওয়ার পর দেশের একজন আবহাওয়াবিদ বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকবে আগামী এপ্রিল-মে পর্যন্ত।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে দেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। দেশের কয়েক জায়গায় হতে পারে মৃদু থেকে মাঝারি বৃষ্টি।
সচরাচর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীত জেঁকে বসে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকায় এবার কয়েকদিন দেরি হচ্ছে।
তবে আগামী সপ্তাহেই অর্থাৎ ডিসেম্বরের দশ তারিখের মধ্যে তাপমাত্রা কমে গিয়ে শীত নামার পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ।
তিনি বলেন, আকাশে মেঘ থাকার কারণে রাতের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে। যখন এই মেঘ কেটে যাবে, অর্থাৎ সাইক্লোনটা কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে ১-৩ ডিগ্রি, কোনো কোনো জায়গায় ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
চলতি বছর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হেনেছে তিনটি ঘূর্ণিঝড়। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় কিছুটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ।
সাগরের উষ্ণ হাওয়া আর জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে এবার শীতকালের স্থায়িত্ব হবে কম।
বজলুর রশীদ বলেন, এ বছরের নয় মাসই অস্বাভাবিক আবহাওয়া। মার্চ-এপ্রিলে দাবদাহ ছিলো, যা পুরোই অস্বাভাবিক আবহাওয়া। বর্ষাকালে অস্বাভাবিক কম বৃষ্টি ছিলো। তার ওপর বাংলাদেশে এবার তিনটা ঘূর্ণিঝড় এসেছে।
‘বিশ্ব উষ্ণায়ন একটা ইস্যু রয়েছে। এর সঙ্গে এ বছর শক্তিশালী ’এল নিনো’ বছর। এটা এপ্রিল-মে পর্যন্ত থাকবে। এর জন্য অস্বাভাবিক আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখা যাবে সামনে আরো কয়েকমাস।
শীতের মৌসুমে চলতি মাসেই এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং জানুয়ারিতে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবার পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অফিস।