নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার আগে স্মার্ট ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মের কথা শুনলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়োজনে লেটস টক-এর ৫৩তম পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ৩০০ জন তরুণের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া তরুণ বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা, যার প্রশংসা করেছেন প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। সেঁজুতি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখোমুখি এই সাক্ষাৎ তিনি সারাজীবন লালন করবেন।
অনুষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ড. সেঁজুতি বলেন, ‘এটি একটি অসাধারণ অনুভূতি ছিল। আমি একজন বিজ্ঞানী। ল্যাবে বেশিরভাগ সময় কাটাই।
‘আমাকে যখন এমন একটি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করতে বলা হয়েছিল, আমি অবশ্যই খুব নার্ভাস ছিলাম। কারণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবার রোল মডেল।
'কিন্তু যখন তিনি অনুষ্ঠানস্থলে এসে আমাকে দেখে হাসলেন, আমার সমস্ত নার্ভাসনেস চলে গেলো। মনে হলো, আমরা মাত্র দেড় ঘণ্টার জন্য আড্ডা দিতে যাচ্ছি। আমরা এই প্রজন্মের প্রশ্ন নিতে যাচ্ছি এবং তাঁদের মতামত শুনতে যাচ্ছি।’
গত শুক্রবার লেটস টক-এর বিশেষ এই পর্বে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই পর্ব বিভিন্ন টেলিভিশনে প্রচার হবে আগামী ২৮ ডিসেম্বর। সিআরআই ও ইয়াং বাংলার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এটি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ২০১৮ সালের লেটস টক অনুষ্ঠানে তরুণদের জিজ্ঞাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রী নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেন এবং তরুণদের কথা শোনেন।
সেঁজুতি বলেন, আমি বিশ্বাস করি এটি আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিলো। সারা বিশ্বে খুব কম যুবক-যুবতী এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এত দীর্ঘ সময় সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান।
‘আমি সত্যিই এটির প্রশংসা করেছি এবং এই দিনটি কখনই ভুলব না,' যোগ করেন এই তরুণ বিজ্ঞানী।
এবারের লেটস টকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি এবং তরুণদের নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণ বিষয়ে কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
একইসঙ্গে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন রাখেন ও মতামত জানান তরুণরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবনা নিয়েও বেশ কিছু নতুন তথ্য মিলবে এবারের লেটস টক অনুষ্ঠানে।
তরুণ বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহা বলেন, সেশনে অংশ নেওয়া তরুণ সংগঠক ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আসা প্রশ্ন নিয়ে আমরা প্রায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা কথা বলেছিলাম। সেখানে তরুণ ফুটবলার, ক্রিকেটার, বক্সার, সমাজ পরিবর্তনে প্রভাব রাখা সংগঠক এবং বিজ্ঞানীরা উপস্থিত ছিলেন। আমরা তাদের অনেকের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়েছি।
‘কিন্তু যা বারবার আমার কাছে অনুরণিত করেছে এবং প্রধানমন্ত্রীও যে বিষয়টির উপর জোর দিয়েছিলেন তা হলো, আমাদের নিজেদেরকে নিজেদের মতো করে পরিচালিত করতে হবে। আমাদের আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। এই প্রজন্ম অন্যের ওপর নির্ভর করতে পারে না।
‘আমাদের নিজেদের কাজে বিশ্বাস রাখতে হবে, দেশের জন্য কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের অভিভাবকদের কথাও শুনতে হবে। আমি বিশ্বাস করি যে, এটি আমার জন্য এবং আমাদের সকলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিলো।’
এশিয়ার অন্যতম সেরা এই বিজ্ঞানী বলেন, আমরা সবাই খুব অনুপ্রাণিত হয়েছি। আমরা গান শুনেছি, কথা বলেছি, হাততালি দিয়েছি। আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে আমাদের আন্তরিক প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছি। এটা আলাদা ধরনের অভিজ্ঞতা ছিলো।
দেশের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে তরুণদের সেতুবন্ধন গড়ে দিতে ২০১৪ সাল থেকে ইয়াং বাংলা লেটস টক শিরোনামে এ আয়োজন করে আসছে। ২০১৮ সালের ভোটের আগে প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
লেটস টকের বেশ কয়েকটি পর্বে উপস্থিত হয়েছেন তরুণদের সঙ্গে ভাবনা বিনিময় করেছেন সিআরআইয়ের চেয়ারম্যান তথ্য প্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয়। লেটস টকে এসেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ– পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।
এছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারকরাও লেটস টকে মুখোমুখি হয়েছেন দেশের তরুণদের।