নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে তাই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কী বিবৃতি দিলো তা নিয়ে চিন্তা করছে না সরকার। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য বিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।
মঙ্গলবারের ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতরা সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলেননি।
নির্বাচন পরবর্তী সৌজন্য বিনিময়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজন করে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানের। যেখানে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি শুধুই শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠান। ছিলো চা নাস্তার আয়োজনও।
অনুষ্ঠান জুড়ে সবার নজর ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের দিকে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে কোন কিছু গ্রহণ না করেই দ্রুত তিনি অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করেন। যদিও অন্য রাষ্ট্রদূতরা দীর্ঘ সময় ছিলেন।
চায়ের ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও জার্মান রাষ্ট্রদূত।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সবসময় বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু।
জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্রস্টার বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। বাংলাদেশের মানুষের সাথে ভবিষ্যতেও কাজ করতে চায়। ২০২৪ উপলক্ষে সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।
নির্বাচনে কোনো ধরনের পর্যবেক্ষণ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রস্টার বলেন, ‘আমাদের দাপ্তরিক বিবৃতিতে আমরা এ বিষয়টি পরিষ্কার করবো।’
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে যে বিবৃতি দিয়েছে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কি বিবৃতি দিলো তা নিয়ে চিন্তা করছে না সরকার।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সবার সঙ্গে বাংলাদেশের যে অংশীদারিত্ব রয়েছে, এটা নতুন সরকারের সঙ্গেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি মনে করি। নতুন সরকারকে সবাই গ্রহণ করবে এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আব্দুল মোমেন আরও বলেন, আমরা খুব খুশি যে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সংঘাতবিহীন নির্বাচন করতে পেরেছি। জনগণ রায় দিয়েছে, এটাই যথেষ্ট। আমাদের আর কিছুর দরকার নেই। জনগণ রায় দিয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, ভারত, সুইডেন, ফিলিস্তিন, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বিদেশি মিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা মিলিয়ে প্রায় ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।