বর্তমান গ্যাস সংকটের পেছনে যে কারণ

আমদানি করা তরল প্রাকৃতিক গ্যাস রূপান্তর করা নিয়ে সংকটের কারণেই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের অভাব দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, গ্যাস রূপান্তরের দুটি ইউনিটের একটির সংস্কার হচ্ছে। অপরটিও দু-এক দিনের মধ্যে চালু হলে সংকট কমবে। 

প্রতি বছর শীত এলেই দেশে গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়। শীতের তীব্রতায় পাইপ লাইনের ভেতরের জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গ্যাস সংকট বাড়ে। তবে এবার আমদানি করা গ্যাসের একটি টার্মিনাল সংস্কারে থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। তাই বাসাবাড়ি ও শিল্পখাতে গ্যাসের সংকটও বেড়েছে। 

গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্পকারখানায়ও উৎপাদন যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি বাসা-বাড়িতেও মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। সিএনজিচালিত যানবাহনও অসুবিধার মধ্যে রয়েছে। শীত এলেই মাসের পর মাস গ্যাস থাকে না কোন কোন এলাকায়। তবে শিগগিরই ওই সংকট দূর হবে বলে মনে করছেন গ্রাহকেরা।

একই কথা প্রতিধ্বনিত হলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কথায়। তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট সাময়িক। একটি এফএসআরইউ নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে থাকায় এই সংকট, দু একদিনের মধ্যে কেটে যাবে। তবে আরেকটি এফএসআরইউ নিয়মিত সার্ভিসিংয়ে যাবে সেটি মার্চ নাগাদ চালু হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যেভাবে ২০২১ সালে দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছে, তেমনি ২০২৬ সালের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে। ০২৬ সালে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা হবে ৬০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি রয়েছে।

গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ প্রাধান্য সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ঠিক রাখা। সে কারণে বাসাবাড়ি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান কম গ্যাস পাচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দেশের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ আসবে জানিয়ে সবাইকে এক হয়ে তা মোকাবেলার আহবানও জানান নসরুল হামিদ বিপু।