ধোঁয়াশা কাটলো স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের

নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনা ছিলো স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভূমিকা সংসদে কী হবে। তারা জোটবদ্ধ হবেন, নাকি স্বতন্ত্র হিসেবেই সংসদে ভূমিকা রাখবেন?

সেই ধোঁয়াশা কাটাতেই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের গণভবনে ডাকেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে স্বতন্ত্রদের কথা শোনার পাশাপাশি দুর্নীতি, সন্ত্রাস নিয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান সরকারপ্রধান।

দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে স্বতন্ত্রদের সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবেই সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার কথা বলেছেন সংসদ নেতা। পাশাপাশি এলাকায় কোন্দল মিটিয়ে ফেলার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদ ওয়েস্ট মিনস্টার টাইপ পার্লামেন্ট উল্লেখ করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে হবে, সংবিধান আত্মস্থ করতে হবে এবং সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি পড়তে হবে।

রোববার সন্ধ্যায় গণভবনে স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বৈঠকের সঞ্চালনা করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। এতে যোগ দেন স্বতন্ত্র ৬২ জন সংসদ সদস্যই। 

তাদের মধ্যে ৫৮ জনই বিভিন্ন স্তরের আওয়ামী লীগ নেতা। যারা দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন। 

সূচনা বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে না। অব্যাহত থাকবে অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এছাড়া যেসব প্রকল্প দেশের অর্থবহ হবে, সেসব প্রকল্প গ্রহন করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। 

এসময় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় যদি কেউ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকেন তাদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে বৈঠকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের প্রায় সবাই একবাক্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। 

তবে তাতে প্রধানমন্ত্রীর সায় না দিয়ে বলেন, আপনারা সবাই আমার। একদল আমার ডান হাত, অন্য দল বাম হাত। আপনারা সবাই আমার সঙ্গে আছেন। আপনাদের সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।