টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই পেতে জেলা প্রশাসক ও তাঁত বোর্ডের উদ্যোগ

টাঙ্গাইল শাড়ির জিআই সনদ পেতে কাজ করছে জেলা প্রশাসক ও তাঁত বোর্ড। যদিও সনদ পেতে এখনও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয়নি।

নিয়ম অনুযায়ী পণ্যটি সম্পর্কে জার্নাল প্রকাশের পর জিআই স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে অন্তত দুই মাস। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অর্গানাইজেশনের কাছে যেতে পারবে বাংলাদেশ। সেই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

জনশ্রুতি আছে প্রায় ৫শ’ বছর আগে মুর্শিদাবাদ থেকে তন্তুবাই সম্প্রদায় একদল মানুষ আসেন বাংলাদেশে। যারা বংশ পরম্পরায় তাঁতের শাড়ি বোনেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত আবহাওয়া বিরাজ করা কোন অঞ্চল তারা পাচ্ছিলেন না।

দলটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জ, তারপর ঢাকার তাঁতিবাজার ও মানিকগঞ্জ হয়ে টাঙ্গাইলে পৌঁছে। সেখানে লৌহজং নদীর পাড়ে মিলে যায় তাদের কাঙ্ক্ষিত আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। সেখানেই থিতু হন মুর্শিদাবাদের সেই তন্তুবাই সম্প্রদায় যাদেরকে বর্তমানে বসাক বলা হয়।

উৎপাদন করেন পাতলা সুতির এমন এক শাড়ি যা ধোয়ার পর বহরে কমে না বরং বাড়ে। এটাই টাঙ্গাইল শাড়ির আদি ইতিহাস। যার খ্যাতি এখন বিশ্বজোড়া।

Tangail-sari

৪৭ এর দেশভাগ। এরপর মুক্তিযুদ্ধ। ইতিহাসের নানান পর্বে তারা দেশ ছাড়েন। কেউ যান পশ্চিমবঙ্গে, কেউ বা অন্য কোথাও। কিন্তু শাড়িটির নাম থেকে যায় ‘টাঙ্গাইল শাড়ি’।

শিল্প নকশা ওট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের পেটেন্ট পরিচালক আলেয়া খাতুন বলেন, টাঙ্গাইল থেকেই কিছু তাঁতি ভারতে গিয়েছেন। আমাদের শাড়ির নমুনা দেখেই তারা ওখানে শাড়ি বুনছেন।

নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা অ্যাসোসিয়েশন অথবা উপযুক্ত কোন অধিদপ্তর এই আবেদন করবেন। সেই হিসেবে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও তাঁত বোর্ডের এটি করার কথা ছিলো। এতদিন গরজ না থাকলেও এখন দুই পক্ষ রীতিমতো আবেদনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। 

টাঙ্গাইল শাড়ি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রঘুনাথ বসাক জানান, এতদিন তেমন কারো আগ্রহ না দেখা গেলেও এখন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও তাঁত বোর্ডের এটি কারা জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলা প্রশাসকের দাবি ভারতের স্বীকৃতি দেওয়ার আগেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

Tangail-sari1

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মাহবুব হোসেন জানান, ভারতের ইস্যু সামনে না আসলেও আমরা আবেদন করতাম। আপনারা কাগজপত্র গুলো দেখবেন এটা অনেক সময়সাপেক্ষ একটা বিষয়।

জার্নালে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অন্তত দু’মাস লাগে এই স্বীকৃতি পেতে। এরপর এটি কীভাবে ভারতের জিআই পণ্য হলো সেই প্রশ্ন তুলবে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিখ্যাত টাঙ্গাইল শাড়িকে নিজেদের ঐতিহ্য বলে দাবি করেছে ভারত। দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এমন দাবি করার পর এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়ে নয়াদিল্লি।

এরপর এক সপ্তাহ বাদেই ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে টাঙ্গাইল শাড়িকে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

তাঁত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সময়মতো বাংলাদেশ ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের আবেদন না করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় ২৫০ বছরের ঐতিহ্য টাঙ্গাইল শাড়ি বোনা হয় টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি, দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও কালিহাতীর বল্লা এলাকায়। এই পেশার সঙ্গে জেলাটির প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ যুক্ত রয়েছেন।