ক্ষমতার অপব্যবহার যেনো না হয়, বিচারপতিদের রাষ্ট্রপতি

দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেনো অপব্যবহার না হয় তা কঠোরভাবে খেয়াল রাখতে বিচারপতিদের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে দুইদিনব্যাপী ‘একবিংশ শতাব্দীতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবিধানিক আদালত: বাংলাদেশ ও ভারত থেকে শিক্ষা’ শীর্ষক কনফারেন্সে এ আহ্বান জানান তিনি।

সাহাবুদ্দিন বলেন, ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দায়িত্ব পালনের জন্য ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। আবার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং ক্ষমতার যাতে অপব্যবহার না হয় সেদিক কঠোরভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, উভয় (বাংলাদেশ ও ভারত) দেশের সাংবিধানিক আদালতগুলির জন্য বিচারিক সক্রিয়তা এবং বিচারিক সংযমের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখা অপরিহার্য।

‘আদালতের হস্তক্ষেপগুলি যেনো সাংবিধানিকতার নীতি, ক্ষমতা ভারসাম্য এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে পরিচালিত হয় তা নিশ্চিত করতে হবে,’ বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশে সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে সংবিধানকে নানাভাবে কাটা-ছেঁড়া করে গণতন্ত্রকে চিরতরে হত্যা করার অপচেষ্টা করেছিলো। কিন্তু জনতার প্রতিরোধের মুখে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে।

‘স্বৈরশাসকেরা তাদের পতনের আগে অবৈধভাবে সংসদকে ব্যবহার করে সংবিধানের পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী পাসের মাধ্যমে তাদের সমস্ত কুকীর্তিকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করেছে।’

জাতির ক্রান্তিকালে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সংবিধানকে রক্ষা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বলেন, ভারতের মতো বাংলাদেশেও আইনের শাসন রয়েছে। বিচার বিভাগের ওপরে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ নেই। বাংলাদেশ ও ভারতের সাংবিধানিক আদালতগুলোকে মামলাজট নিরসন, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বিচারিক জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলিতে মনোযোগ দেয়ার পাশাপাশি বিচার বিভাগের উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকার বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, এর ফলে ন্যায়বিচার কেবল সহজলভ্য নয় বরং সময়মতো এবং ন্যায়সঙ্গত ভাবে সরবরাহ করাও নিশ্চিত হয়েছে।