কমিশনের চিন্তা করে প্রকল্প নেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালি করতে হবে। একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে স্থানীয় সরকার। স্থানীয় সরকার স্থানীয়ভাবেই দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ দেবে, তবে ধীরে ধীরে স্থানীয় সরকারকেও স্বাবলম্বী হতে হবে।

রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস-২০২৪ উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে ছিলো তখন আমরা একটি কমিশন গঠন করি। ৯৬ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখনই আমরা ওয়ার্ড থেকে নিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে, উপজেলা, জেলা পর্যন্ত আইন পাস করি। জেলা পরিষদ আইন আমরা সেই সময় করে দেই। 

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আবারও আমরা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনকে শক্তিশালী করি। জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে যেন এগুলো গড়ে ওঠে সেই ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সার্বিক উন্নয়ন।

এসময় যথাযথ কাজে আসছে কিনা এসব বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প নিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, শুধু নেয়ার জন্য কোনো প্রকল্প নেবেন না; জনগণের কাজে লাগে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কমিশনের চিন্তা করে যত্রতত্র উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া যাবে না। জনগণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প হাতে নিতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থ সাশ্রয় করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের বড় কাজ জনগণের আস্থা অর্জন করা। জনগণের আস্থা যারা অর্জন করতে পারে তাদের ভোটের চিন্তা করতে হয় না। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করতে হবে।

এসময় সবাইকে সার্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বজনীন পেনশনে যুক্ত হলে বৃদ্ধ বয়সে অন্যের মুখাপেক্ষি হতে হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন৷ তাদের বিদ্যুৎ বিল অন্যদের চেয়ে বেশি হবে৷ অর্থাৎ তাদের বিদ্যুতের রেট অন্যদের চেয়ে বেশি হবে৷ নির্দিষ্ট ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারে কম বিল দেবেন স্বল্প আয়ের ব্যবহারকারীরা৷

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে সরকার। কিন্তু এসব ব্যাবস্থাপনার যত্ন করতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে জনপ্রতিনিধিদের। খাল, বিল, নদী এগুলো যাতে সঠিকভাবে থাকে সেগুলো দেখতে হবে। জলাধারগুলো দেখলেই ভরাট করা যাবে না।