হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে সুফল মিলছে না নগরবাসীর

রাজধানীর বায়ু দূষণ রোধে হাতে নেয়া হয় নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্প। তবে হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কোনো সুফলই পাচ্ছে না নগরবাসী। উল্টো দূষণ বেড়েছে কয়েকগুণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে সঠিক সমীক্ষা না করার কারণে প্রকল্পের নামে অপচয় হচ্ছে।

নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্প। পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বায়ু দূষণ রোধে খরচ করেছে নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ প্রকল্পের পুরো টাকা।

অফিস ভবন নির্মাণ, বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র কেনা, প্রশিক্ষণ আর বিদেশ ভ্রমণ পরিবেশ অধিদপ্তর খরচ করেছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা।

ফুটওভার ব্রিজ, ফুটপাত, যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করলে যাত্রীরা রাস্তা দিয়ে পারাপার হবে না এতে সড়কে গতি বাড়বে। এমন যুক্তি দেখিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনও খরচ করে প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা। 

গাড়ি থেকে দূষণ কমাতে গাড়ির গতি যাতে ঠিক থাকে সেজন্য ৭৫টি স্থানে বসানো হয় সিগন্যাল লাইট। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এছাড়া রাজধানীর যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে ডিটিসিএকেও প্রকল্পে যুক্ত করা হয়। কিন্তু সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি।

পরিবেশ অধিদপ্তর পরিচালক (বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ) জিয়াউল হক জিয়া বলছেন, বায়ু দূষণ রোধে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হচ্ছে। দূষণরোধে নীতিমালা বানানোর কাজও শেষ পর্যায়ে।

বন পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ইচ্ছেমতো এখন আর প্রকল্প নেয়া হবে না। যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন, এখন থেকে তাদের প্রাধান্য দিয়ে অর্থ খরচ করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাফলতির কারণে প্রকল্পের টাকা অপচয় হয়েছে। কিন্তু আসল কাজই হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে বায়ু মান নিয়ন্ত্রণে দেয়া বরাদ্দ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

বিবিসি বলছে, ট্রান্স-বাউন্ডারি এয়ার পলিউশন, বর্জ্য পোড়ানো, যানবাহন, ইটভাটা ও শিল্প কারখানা এবং নির্মাণকাজই বাংলাদেশের বায়ু দূষণের প্রধান কারণ।