সারাদেশে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সারাদেশে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করকে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে সঠিকভাবে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা তা সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শুধু সিটি করপোরেশন এলাকায় নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও এটি অনুসরণ করতে হবে।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চার দিনব্যাপী বার্ষিক সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থাপনা নির্মাণ যেন বিল্ডিং কোড মেনে করা হয় সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। শুধুমাত্র যেখানে সিটি কর্পোরেশন আছে সেখানেই নয়, সার্বজনীনভাবে প্রত্যেক জায়গায়ই এই বিষয়টা মানতে হবে। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত আলো বাতাস সরবরাহের ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা এগুলো রেখেই নির্মাণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বেইলি রোডের দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে দ্রুত ছুটে যাওয়ায় এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় ঢাকা জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

তিন ফসলি আবাদি জমি বাড়িঘর বা শিল্প-কারখানাসহ অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না মর্মে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ফসলি জমিকে রক্ষা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাতে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মালিকানাধীন গ্রিন কোজি কটেজ আগুন লাগে। ওই ভবনটির বিভিন্ন তলায় ছিলো নানান রেস্তোরাঁ।

কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকলের কর্মীরা। ততক্ষণে ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ও আগুনে নিহত হন বহু মানুষ।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জনের। হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন পাঁচজন।

পুড়ে যাওয়া ভবনে আগুনের সূত্রপাত একটি চা-কফির দোকান থেকেই হয়েছিলো বলে পুলিশের মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ভবন মালিক আমিন মোহাম্মদ গ্রুপসহ দুইটি রোস্তোরাার মালিকদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।

এদিকে আগুনে প্রাণহানির ঘটনার পরই রেস্তোরাঁর নিরাপদ পরিবেশ ও অনুমোদন দিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সারাদেশে সাড়ে চার লাখের বেশি রেস্তোরাঁ রয়েছে।

বেশিরভাগ রেস্তোরাঁয় নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নিরাপত্তা, যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার।