পাবনার রূপপুরে আরো একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য সরকার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বর্তমানে নির্মাণাধীন দেশের সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয়টা শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এন এস টি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছি। আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চেষ্টা করেছিলাম দক্ষিণে। কিন্তু দক্ষিণে আমাদের যে মাটি, সে মাটি এতো নরম; প্রত্যেকটা দিন আমরা দেখেছি আসলে সেখানে করা সম্ভব নয়।
‘এখন যেখানে আমরা করেছি, এটা বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর দ্বিতীয়টাও আমরা রূপপুরে করতে পারবো,’ যোগ করেন তিনি।
রাশিয়ার সহযোগিতায় ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে রূপপুরে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক ও সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্র দুটি ইউনিট নিয়ে গঠিত।
ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির এই পারমাণবিক কেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটের কাজ প্রায় শেষ। চলতি বছরেই সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বিদ্যুৎ।
গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথমবারের মতো দেশে আসে নিউক্লিয়ার ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি।
এরপর ৫ অক্টোবর এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে পারমাণবিক জ্বালানি হস্তান্তর অনুষ্ঠান হয়। ওই অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের প্রত্যেকটি দ্বীপে অ্যাটমিক এনার্জি থেকে লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, মাটির দেখা হয়েছে। আসলে যেখানে মাটি খুব নরম, সেখানে করা সম্ভব হবে না।
‘আমি এখনই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীকে বললাম যে, এটার কাজ আমাদের শেষ হবে; সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয়টা যাতে শুরু করতে পারি এখন থেকে, আমাদের সেই প্রস্তুতি নিতে হবে,’ যোগ করে প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞানকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তিনি সদ্য স্বাধীন দেশে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত পরমাণু শক্তি কমিশন মানুষের স্বাস্থ্য পরিচর্যা অত্যাধুনিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন প্রচলন করেছে।
কিন্তু পঁচাত্তরের পর সামরিক স্বৈরশাসকরা বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দেয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা ছিলো তাদের কাছে ভোগের বস্তু।
আর ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আসার আগে গবেষণায় কোনো বরাদ্দ ছিলো না এবং কোনো প্রতিষ্ঠানও করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ছাড়া কোনো উৎকর্ষতা অর্জন করা যায় না। কৃষিতে গবেষণার কারণে ১৯৯৯ সালে মাত্র তিন বছরের মধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান শিক্ষায় গুরুত্ব বাড়াতে এবং সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী। আমরা নিজেরাই অর্জন করবো, কারো কাছে হাত পেতে চলবো না। প্রত্যেক বিভাগীয় শহরেই নভোথিয়েটার করা হবে। ছেলেমেয়েরা যাতে আরো বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে গড়ে ওঠে সে লক্ষ্য সরকারের।
‘বিজ্ঞান, গবেষণা, উন্নয়ন এটাই আগামীর লক্ষ্য। আজকের সন্তানরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের মূল সৈনিক। তাদের সেভাবেই গড়ে উঠতে হবে; বলেন তিনি।
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাত গবেষণায় পিছিয়ে আছে। ডাক্তাররা শুধু টাকা ইনকাম করে। স্বাস্থ্যখাতে গবেষণা আরো বাড়াতে হবে।
‘যারা সরকারি চাকরি করছেন, তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস বাদ দিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিন; চিকিৎসকদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর।