ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সামর্থবানদের দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ঈদুল আজহার নামাজ শেষে দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
বুধবার (২১ জুলাই) সকাল ৮.৩০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে ঈদুল আযহার নামাজে অংশ গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সদস্য ও বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিনি।
দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলিমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঈদ-উল-আযহা উৎসবের সাথে মিশে আছে চরম ত্যাগ ও প্রভুপ্রেমের পরাকাষ্ঠা। কুরবানি আমাদের মাঝে আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সঞ্চারিত করে, আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে আনন্দ-বেদনা ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।
করোনা মহামারির মধ্যে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এবার মুসলিম বিশ্ব এমন একটা সময়ে ঈদ-উল-আযহা উদযাপন করছে যখন করোনার ভয়াল থাবায় গোটা বিশ্ব বিপর্যস্ত। বাংলাদেশেও করোনার নেতিবাচক প্রভাব ক্রমান্বয়ে প্রকট হচ্ছে। করোনার কারণে দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা আজ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জীবন বাঁচানো প্রথম অগ্রাধিকার হলেও জীবন বাঁচিয়ে রাখতে জীবিকার গুরুত্বও অনস্বীকার্য।
আরও পড়ুন: ঈদের মর্মবাণী ধারণ করে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর
করোনাকালিন সময়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার করোনা মোকাবিলা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিভিন্ন প্যাকেজ প্রণোদনা প্রদানসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত আছে। কৃষি ও শিল্পসহ উৎপাদনশীল প্রতিটি খাতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতেও সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে টিকাদান কর্মসূচি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও বর্তমানে তা পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের সকল নাগরিকের জন্য টিকাদান নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই এ কর্মসূচিকে সফল করতে সরকারের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
করোনা মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আষাঢ় আহ্বান জানিয়ে আব্দুল হামিদ বলেন, করোনা এমন একটি ভাইরাস যা থেকে ইচ্ছে করলেই কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বা এককভাবে একটি দেশের পক্ষে নিরাপদ থাকা সম্ভব নয়। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে আজ আমরা গ্লোবাল ভিলেজের বাসিন্দা। তাই বিশ্বকে করোনার হাত থেকে বাঁচাতে হলে উন্নত-অনুন্নত ও ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে বহুজাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আরও পড়ুন: করোনা থেকে মুক্তির মোনাজাত ঈদ জামাতে
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রাতের আঁধার শেষেই ঝলমলে রোদের আলোতে ভরে উঠে পৃথিবী। করোনার অমানিশার আঁধারও সহসাই কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ। নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যাবে আমাদের দেশ। কিন্তু এর জন্য দরকার সকলকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। অর্থাৎ, সঠিকভাবে মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।
সরকার নির্ধারিত স্থানে কুরবানি সম্পন্ন করতে এবং যথাসময়ে কুরবানির বর্জ্য অপসারণের তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি দেশের আপামর জনগণের প্রতি কুরবানির মর্মার্থ অনুধাবন করে সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হয়ে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। ত্যাগের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত হলেই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি ও সৌহার্দ্য।
একাত্তর/আরএইচ