গরমে নাকাল শিশুরা, হাসপাতালে চাপ

বৈশাখের শুরুতেই গরমের দাপট। তবে এই গরমই শেষ নয়। আবহাওয়া অফিসের মতে, এই অবস্থা চলবে আরও অনেকটা সময়। তীব্র গরমে চারদিকে রোগবালাই বাড়ছে। এক্ষেত্রে শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ৫৫ শিশু।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হঠাৎ গরমে বেড়েছে ডায়রিয়াজনিত রোগ। সেই সঙ্গে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, নিউমোনিয়াসহ শ্বাষকষ্টের রোগীর চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। 

এদিকে শুক্রবার দুপুর তিনটায় চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আদ্রতা ছিল ১৭ শতাংশ। যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। ধারনা করা যাচ্ছে, আজও জেলার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পারদ সর্বোচ্চ হতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক চার ডিগ্রি,  বুধবার ৪০ দশমিক আট ডিগ্রি ও মঙ্গলবার ৪০ দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। যা ছিল সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

চুয়াডাঙ্গার পাশাপাশি সারাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ঢাকার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে।

এই সময় বেশি করে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেছেন, উপসর্গ দেখা মাত্র দেরি না করে চিকিৎসকদের কাছে নিতে হবে। 

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফারহানা আহমেদ স্বরনী বলেন, ডায়রিয়ার পাশাপাশি এবার ঘরে ঘরে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে। শিশু হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ শিশু  চিকিৎসা নিচ্ছে। এমন অবস্থায় সন্তানের সুস্থতা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাবা-মা।  

তিনি বলেন, এই সময়ের বয়স্ক আর শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আদ্রতা ছাড়া শুষ্ক আবহাওয়ার শ্বাসকষ্টের কারণ। দাবদাহ মাসজুড়ে চললে কিছু সতকর্তা মানতে হবে। 

ডা. স্বরণী বলেন, সাধারণত নভেম্বর, ডিসেম্বরে অ্যাজমাজনিত ফ্লুগুলো বেশি থাকে। তখন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা ৩৫০ থেকে ৪০০ ছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারি-মার্চ থেকে এই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। 

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা শিশু হাসপাতালের বর্হিবিভাগে ১০৫৫ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। 

এদিকে  হিট স্টোক এড়াতে  দিনের বেলা অযথা বাইরে বের না হওয়ার হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আইসিডিডিআরবির। 

সংস্থাটি  বলছে, বাইরে গেলে অবশ্যই ছাতা বা  টুপি ব্যবহার করতে হবে, পরতে হবে সূতি কাপড়। প্রচুর বিশুদ্ধ পানি ও তরল পানের পাশাপাশি খেতে হবে সহজপাচ্য খাবার। এই গরমে কঠিন শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি।

একই সঙ্গে ডায়ারিয়া হলে স্যালাইন খাওয়ানোসহ চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শও দিয়েছে আইসিডিডিআরবির।