বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি দুই দিনের সফরে সোমবার ঢাকা আসছেন। গত জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পর মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশ থেকে এটি প্রথম উচ্চপর্যায়ের সফর।
জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশটির রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করছে বাংলাদেশ।
কাতারের আমিরের ঢাকা সফরের সময়ে ১১টি দলিল সই হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
সফর উপলক্ষে আযোজিত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ১১টি দলিলের মধ্যে ছয়টি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক। চুক্তিগুলো হচ্ছে দ্বৈতকর পরিহার, আইনগত বিষয়ে সহযোগিতা, সাগরপথে পরিবহন, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বদলি, ও যৌথ ব্যবসা পরিষদ গঠন সংক্রান্ত চুক্তি।
সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে শ্রমশক্তি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক, বন্দর পরিচালনা, উচ্চ শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা, যুব ও ক্রীড়া সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা।
সফরের তাৎপর্য বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাতার মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের অন্যতম শ্রমবাজার যেখানে প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। যেহেতু কাতার জ্বালানি সমৃদ্ধ দেশ, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এই সফর গুরুত্বপূর্ণ।
হাছান মাহমুদ বলেন, এছাড়া বিপুল পরিমাণ সার্বভৌম তহবিল রয়েছে কাতারের এবং বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় বিনিয়োগের উৎস হতে পারে ওই তহবিল।
হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমুখী। কাতার বঙ্গবন্ধুর সরকারকালীন (১৯৭৪ সালে) বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম মুসলিম রাষ্ট্র।
সাম্প্রতিকালে কাতারের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক, যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা পরিধি সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, জ্বালানি, বিমান চলাচল, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ইত্যাদি ক্ষেত্রচিহ্নিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আমিরের নামে রাস্তা
কাতারের আমিরের নামে ঢাকায় একটি সড়কের নামকরণ হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিরপুরের কালসি এলাকায় বালুর মাঠের নির্মিতব্য পার্ক এবং মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে কালসি উড়াল সেতু পর্যন্ত সড়কটি আমিরের নামে করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রসঙ্গ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ফিলিস্থিনিদের পক্ষে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাতার এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাভাবিকভাবে এ আলোচনা আসতেই পারে।