সক্ষমতা আছে কিন্তু বিদ্যুৎ গেল কোথায়: চুন্নু

দেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, সরকার বলেছে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতা আছে, তাহলে বিদ্যুৎ গেলো কোথায়? গ্রামে লোডশেডিং হয় না চ্যালেঞ্জ করবেন কেন?

রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব চুন্নু বলেন, গ্রামগঞ্জে লোডশেডিং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোথাও ১২ ঘণ্টা, কোথাও আট ঘণ্টা। আমার এলাকায় পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

তিনি বলেন, তার এলাকার মানুষ বলেছেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে দাওয়াত দিতে, লোডশেডিং হয় কি না, তা দেখার জন্য এক দিন থাকতে।

পরিস্থিতি দেখতে মুজিবুল হক তার নির্বাচনী এলাকায় যাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে অনুরোধ জানান।

সক্ষমতা সত্ত্বেও ভাড়ায় চালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪১ শতাংশ বসে আছে দাবি করে মুজিবুল হক বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বাবদ ২৬ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে।

রেন্টাল বিদ্যুতের (ভাড়ায় চালিত) জন্য যে আইন করা হয়েছে, তাকে দায়মুক্তির আইন হিসেবে আখ্যা দেন চুন্নু। তিনি বলেন, উৎপাদন না করেও বসে বসে ভাড়া নেয়ার যে চুক্তি, তা জনগণের স্বার্থে বাতিল করতে হবে। বসিয়ে বসিয়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা বিল দেওয়া...তারপর লোডশেডিং থাকবে...কী যে অসহনীয় অবস্থা এ দেশের, ঢাকায় থেকে বোঝা যাবে না।

আইএমএফের প্রস্তাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মন্ত্রী দাম বৃদ্ধিকে বলেন সমন্বয়। এ সমন্বয় এক বছর করেছেন। আগামী তিন বছরে ১২ বার করবেন। ভর্তুকি পুরো তুললে বিদ্যুতের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মানুষ কিনতে পারবে কি না আমি জানি না। দাম বৃদ্ধি না করে এমন পদক্ষেপ নেন, যেটাতে জনগণের ওপর চাপ না পড়ে সহনীয় পর্যায়ে আপনারা সরকারেও থাকতে পারেন, আর বিদ্যুৎও যাতে পাওয়া যায়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, সড়কের বেশিরভাগ দুর্ঘটনা হয় কোনও গাড়ির ফিটনেস নাই, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। মাননীয় মন্ত্রী যদি একটু স্ট্রং হন। পুরানো গাড়ি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অটো রাস্তায় না চললে মানুষ এইভাবে মারা যাবে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে ব্যাংক একীভূত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

জাতীয় পার্টির এই নেতা অনির্ধারিত আলোচনায় বলেন, ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কাজ না করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন আইএমএফ যখন বলেছে তখন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি সবল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে একীভূত না করে দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করার প্রস্তাব দেন।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য কিছু ব্যাংককে একীভূত করার জন্য চিহ্নিত করেছে। ১০টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের দায় হচ্ছে ৮৪ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে ৫৪ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। গত ১০ বছর ধরে এই ব্যাংকগুলোর নাম এসেছে। এই ব্যাংকগুলো ঠিকভাবে কাজ করছে না। যেমন বেসিক ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো রকম বড় পদক্ষেপ নেয়নি। আজ আইএমএফ যখন বলেছে তখন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এর দায় দায়িত্ব কে নেবে? যারা এর জন্য দায়ী তাদের কী হবে সে সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো কথা বলেনি। যারা দায়ী তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা না হলে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবো।

তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ভালো ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করে খারাপ ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে নতুন ব্যাংক করা যায় কি না একান্তভাবে দেখা দরকার। ক্রাইসিস উত্তরণ করতে হবে যদি অর্থনীতিতে সচল করতে চাই।