রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন বলেছেন, দেশে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ বিশ্ব অর্থনীতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কঠিন এ সময়ে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বুধবার বিকেলে বঙ্গভবনে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রপ্রধান এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ বিশ্বের বহুস্থানে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। লোভ-লালসা, ঈর্ষা, প্রতিহিংসার ন্যায় কু-প্রবৃত্তি সমাজের শোষণ-বঞ্চনা বাড়াচ্ছে। দেশে দেশে যুদ্ধ-বিগ্রহ বিশ্ব অর্থনীতিকে ভারসাম্যহীন করে তুলেছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্থ-সামাজিক খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কঠিন এ সময়ে আমাদের একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন কেউ যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বুদ্ধ পূর্ণিমা উপরক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, আবহমান কাল থেকে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে বুদ্ধ পূর্ণিমা উৎসব পালন করে আসছে। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে হাজার বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্য। এ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাচীন বৌদ্ধবিহার এর উজ্জ্বল সাক্ষর বহন করছে।
তিনি বলেন, মহাপণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর আমাদের সবার গর্ব। মহামতি বুদ্ধ মানবতা ও মুক্তির প্রতীক। তিনি স্থান-কাল-পাত্রের ঊর্ধ্বে উঠে পৃথিবীর সকল জীবের কল্যাণ ও সুখ কামনা করেছেন। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘অহিংস পরম ধর্ম’- বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমভাবে প্রযোজ্য। মহামতি বুদ্ধের অনুসারী ও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে এই অঞ্চল তথা বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সব ধর্মই মানুষের কল্যাণের কথা বলে। মানুষকে শান্তি ও সৌহার্দের শিক্ষা দেয়। প্রতিটি ধর্ম থেকে যা উৎকৃষ্ট তা গ্রহণ করতে হবে এবং নিকৃষ্ট পরিত্যাগ করতে হবে। মানুষের কল্যাণের জন্যই ধর্ম, অকল্যাণের জন্য নয়। মনে রাখতে হবে ধর্ম উপলব্ধির বিষয়, তর্কের নয়।
বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আশা করবো একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় বাংলাদেশ গড়তে আপনারা বুদ্ধের সুমহান শিক্ষা ও আদর্শকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিবেন। মানুষকে আলোর পথ দেখাবেন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করবেন। শুধু নিজে বা পরিবারকে নিয়ে ভাল থাকার চিন্তা না করে সকলকে নিয়ে ভালো থাকার চিন্তা করবেন। একটি সৌহার্দ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মহামতি বুদ্ধ আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এ দেশের যা কিছু সাফল্য-অর্জন তা সকলের। ধর্ম-বর্ণ, গোত্র, নৃতাত্বিক পরিচয় নির্বিশেষে আমরা এ দেশের নাগরিক। আসুন সৎ ও সুন্দর জীবন-যাপনে উদ্বুদ্ধ হই, ভালো কাজে অন্যকে অনুপ্রাণিত করি এবং ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদেরকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলি।
বঙ্গভবনের এই আয়োজনে রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী ডা. রেবেকা সুলতানা বৌদ্ধ নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারাও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।
ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতা এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।