গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় যেমন কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকায় তেমনি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যেখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার অনেক কিছুই মেলে। ঢাকার বেশিরভাগ ওয়ার্ডে নগর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থাকলেও তথ্য না জানায় অনেকেই এসব কেন্দ্রে যান না। ফলে, রোগীদের চাপ পড়ে মেডিকেল কলেজ আর জেনারেল হাসপাতালে।
যে কোনো দেশের স্বাস্থ্যসেবার মূল কাঠামোটা তৈরি হয় রেফারেল সিস্টেমের মাধ্যমে। জরুরি আর জটিল চিকিৎসা ছাড়া রোগীরা কোথায় যাবেন, ব্যবস্থা অনুযায়ী খরচ কেমন হবে সবই নির্ধারিত হয় এই ব্যবস্থার মাধ্যমে।
দেশের গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। সেখান থেকে প্রয়োজনে উপজেলা বা জেলা হাসপাতালে যান রোগীরা। এর পরের ধাপে জেনারেল হাসপাতাল। অথচ দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকায় ধাপে ধাপে চিকিৎসার এই ব্যবস্থা নেই। ফলে সব চাপ গিয়ে পড়ে মেডিকেল কলেজ ও জেনারেল হাসপাতালগুলোতে।
তবে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য স্থানীয় সরকারের আওতায় সিটি কর্পোরেশন এলাকার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে আছে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র। যেখানে নামমাত্র খরচে ডাক্তারের পরামর্শ যেমন মেলে তেমনি সাধারণ পরীক্ষাগুলোও করা হয় সরকারি খরচে।
আবার কয়েকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকে একটি নগর মাতৃসদনের আওতায়। যেখানে প্রসূতি নারীদের প্রসবের ব্যবস্থাও আছে।
নগর মাতৃসদনের মেডিকেল অফিসার ডা. কাউছারী আক্তার রিপা বলেন, প্রথমে আমরা মেডিকেল অফিসাররা সবাই দেখি। এখানে আমাদের কনসালটেন্টরা আছেন। যদি মনে হয় আমাদের আইসিইউ পর্যন্ত যেতে হবে তখন আমরা সরকারি মেডিকেলগুলোতে রেফার করি।
ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রার্দুভাবের সময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো যেমন রোগীর খরচ কমায় তেমনি চাপ কমাতে পারে ঢাকা মেডিকেল বা মুগদা হাসপাতালের বহির্বিভাগে।
নগর মাতৃসদনের (অঞ্চল-০৬) প্রকল্প পরিচালক নাহিদ জাহান বলেন, হাসপাতালের খরচ বহন করার ক্ষমতা তাদের থাকে না। যাতায়াতও একটা বিষয়। আর সেখানে অনেক ভিড় হয়। প্রাথমিক সেবাগুলো উনারা পান না। সে কারণে আর্বান হেল কেয়ারগুলো ওয়ার্ডে প্রতিষ্ঠিত। ডেঙ্গুর সময় আমরা যতগুলো পরীক্ষা করেছি উনারা সব কিটস সাপ্লাই দিয়েছেন। আমরা ফ্রিতে ডেঙ্গু পরীক্ষা করেছি।
শুধু দিনের বেলা নয়, চাকরি আর কাজ শেষেও যাতে চিকিৎসা নিতে আসা যায় সে কারণে রাত আটটা পর্যন্ত সেবা নেয়া যায় নগর মাতৃসদনগুলোতে।