আনার হত্যা: শাহীনকে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে পুলিশ

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড আখতারুজ্জামান শাহীন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়েছেন বলে ধারণা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)। তাকে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ।

রোববার সকালে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।

আনার হত্যার তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশ প্রধান হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য সকালে কলকাতার উদ্দেশে বিমানবন্দর ছাড়েন। দলে হারুনের সাথে রয়েছেন- ওয়ারী বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ ও এডিসি শাহীদুর রহমান।

মহানগর গোয়েন্দা প্রধান জানান, শাহীনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের মাধ্যমে আবেদন করা হবে। শাহীন এই হত্যার মাস্টারমাইন্ড বলে নিশ্চিত হয়েছে কলকাতা ও ঢাকার গোয়েন্দারা। বাংলাদেশের তদন্ত দল কলকাতায় প্রথমে ঘটনাস্থলে যাবে। এরপর ভারতে গ্রেপ্তার জিহাদ হাওলাদারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

এদিকে, তদন্ত শেষে রোববার কলকাতা পুলিশের দলের ঢাকা ছাড়ার কথা।

গত ১২ মে ঝিনাইদহর কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।

harun2

গত ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।

খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া সিয়াম নামে একজনকে বুধবার রাতে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ।

আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি।

পুলিশ বলছে, পুরো হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আখতারুজ্জামান শাহীন। কয়েকজন হত্যাকারীকে নিয়ে এ কাজে নেতৃত্ব দেন শিমুল। তিনি পরিচয় গোপন করে আমানউল্লাহ আমান নামে পাসপোর্ট করে কলকাতা যান।

এই খুনের ঘটনায় ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর চার সদস্যদের একটি দল ঢাকায় তদন্তে এসে গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি নিয়েছেন।