বাংলাদেশের সাথে নেপালের বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায়, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সিয়ামকে কলকাতা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে। নেপাল থেকে ফিরে ডিবি প্রধান জানান, সেক্ষেত্রে কলকাতা গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ মিলবে। জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মূল আসামি আখতারুজ্জামান শাহিনকে দেশে ফেরাতে মার্কিন দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করা হবে।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার পর নেপালে পালিয়ে যান অন্যতম আরেক আসামি সিয়াম হোসেন। সেখানে তাকে আটক করে নেপাল পুলিশ। এ বিষয়ে কাঠমান্ডু প্রশাসনের সাথে কথা বলতে গেলো পয়লা জুন ডিবি প্রধানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নেপাল যান।
মঙ্গলবার বিকেলে নেপাল থেকে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি জানান, সিয়াম হোসেনের বিষয়ে নেপাল সরকারের সাথে তথ্য বিনিময় হয়েছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, একই অপরাধীকে নিয়ে দুটি দেশ যদি দাবি করে, তাহলে হোস্ট কান্ট্রি হিসেবে নেপাল বিবেচনায় আনবে।
কাঠমান্ডুর সাথে বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকায় সিয়ামকে দেশে ফেরানো নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। তবে সে অবৈধ অনুপ্রবেশ করায় নেপাল চাইলে তাকে পুশইন করতে পারে।
হারুন অর রশিদ বলেন, আমরা সেখানে কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েকদফা মিটিং করেছি। পাশাপাশি সে যে হোটেলগুলোতে অবস্থান করেছিল, সেগুলোতেও আমরা অনেক ভিডিও পেয়েছি। অনেক তথ্য উপাত্ত পেয়েছি। যেগুলো পরবর্তীতে তদন্তের স্বার্থে আমাদের অনেক কাজে আসবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু ইন্ডিয়ার সাথে নেপালের বন্দি বিনিময় চুক্তি রয়েছে, যদি সে হিসেবে তাদের দিয়ে দেয় অথবা আমাদেরও দিয়ে দেয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার তদন্ত করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।
আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহিনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরাতে প্রয়োজনে মার্কিন দূতাবাসের সাথে কথা বলা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের যে মার্কিন এ্যাম্বাসি আছে সে এ্যাম্বাসি কর্তৃপক্ষের সাথে আমি কথা বলেছি। আমরা হয়তো কয়েকদিনের মধ্যে ডিবি টিম নিয়ে তাদের সাথে মিটিংয়ে বসবো।
নেপাল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বন্দী বিনিময় চুক্তি না থাকায় দুই আসামিকে ফিরিয়ে আনতে ভারতই হতে পারে বিকল্প পথ। সেক্ষেত্রে ভারতের করা হত্যা মামলাতেই আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন ডিবি প্রধান।