সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত সঠিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে কারো কোনো হস্তক্ষেপ বা রাজনৈতিক চাপ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেছেন, পুলিশ স্বাধীনভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি সদর দপ্তরে কোরবানি ঈদে চামড়া সংগ্রহ, বিপণন, সংরক্ষণ ও সরবরাহে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আনার হত্যা মামলায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা গ্রেপ্তারে কোনো চাপ আছে কি না জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, মামলা তদন্তে কারো হস্তক্ষেপ নেই। স্বাধীনভাবে আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।
আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের হেফাজতে পেয়েছে ডিবি।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু রিমান্ডে রয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের পরই স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে নিয়ে আকার ইঙ্গিতে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমদ ওরফে গ্যাস বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনারের আসন কালীগঞ্জে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মিন্টু।
গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।
সংসদ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ফেলার কাজে অংশ নেয়া মুম্বাই থেকে ভাড়া করে আনা কসাই জিহাদকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। আরেক অভিযুক্ত নেপালে গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেনকেও হেফাজতে নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
আর ঢাকায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন হত্যাকাণ্ডের মূল সংঘটক চরমপন্থি নেতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও ফয়সাল আলী ওরফে সাজি ওরফে তানভীর ভূঁইয়া তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের
এদিকে কোরবানির ঈদ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রতিবছর রাজধানী থেকে এক কোটি মানুষ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে যায়। তাদের ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে পুলিশ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ঢাকাকে নিরাপদ রাখতে সক্ষম হয়েছে। এবারও ঈদ উপলক্ষে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের যে নিজস্ব কার্যক্রম রয়েছে চেকপোস্ট, টহল। এই কার্যক্রমের সঙ্গে-যুক্ত হয়েছে ভবনের নিরাপত্তায় থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা সমন্বয় করে আমাদের কাজ করবেন যাতে কোনো সমস্যা না হয়। আমরা জানি বাসা-বাড়ি, দোকান, অফিস খালি রেখে সংশ্লিষ্টরা ঈদের ছুটিতে যাচ্ছেন। সুতরাং সেগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশের।
চামড়া পাচারের বিষয়ে কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, চামড়া যেন ঢাকা থেকে বের হতে না পারে সে জন্য প্রতিটি পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। গাবতলী থেকে বের হয়ে চামড়াবাহী গাড়ি হেমায়েতপুর পর্যন্ত যেতে পারবে। এরপর ঢাকা জেলা পুলিশের চেকপোস্ট থাকবে। হেমায়েতপুর পার হয়ে চামড়া যেন অন্য কোথাও না যেতে পারে সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরের দেশের বিভিন্ন এলাকার চামড়া যেন সীমান্ত পার হয়ে বাইরে না যেতে পারে সে বিষয় জেলা পুলিশের প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আইজিপি নির্দেশনা দিয়েছেন। সব চামড়া যেন ঢাকামুখী হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের সেই তৎপরতা রয়েছে।