সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। আর সরবরাহ প্রায় দুই হাজার ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সংস্কার কাজ শেষ হলে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে। তবে এরপরও ঘাটতি থাকবে আরো ৫০০ মিলিয়নের।
২০২৭ সালে এই চাহিদা বেড়ে দাড়াবে ছয় হাজার মিলিয়নের বেশি। এই সময়ে গ্যাসের পুরো চাহিদা পূরণে সরকার আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির লক্ষ্য ঠিক করেছে। তাই চীনের সঙ্গে যৌথ অর্থায়নে পাইপ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের চীন সফরে।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে আমরা প্রায়োরিটি দিয়েছি মহেশখালী থেকে প্যারালালভাবে আরেকটি গ্যাসের পাইপ নিয়ে আসার জন্য। এই প্রকল্পটি আমরা জিটুজি করার প্রস্তাব দিয়েছি এবং অর্থের সহযোগিতা চেয়েছি। আমাদের যে এফএসআর এখন আছে আমরা ওখানে আরও দুটি করার প্রস্তাব দিয়েছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালে আমরা এমন একটা প্রকল্প নিয়েছি যাতে ওই সময় থেকে গ্যাসের কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
দেশের বড় শহরগুলোতে বিদ্যুতের তার মাটির নিচে নেয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন লাইন আধুনিকায়ণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বিদ্যুতের প্রায় ছয়টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর সবগুলোই ট্রান্সমিশন।
সৌর বিদ্যুৎকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে গ্রিড আধুনিকায়ণ ও ব্যাটারি স্টোরেজেও গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী।
তাই ধারনা করা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এবারের চীন সফরে দুই দেশের সরকারি অর্থায়নে মহেশখালী থেকে আরেকটি তরল গ্যাস সরবরাহের পাইপ লাইন নির্মাণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিদ্যুতের আধুনিক সঞ্চালন লাইন ও বিদ্যুতের তার মাটির নিচে নেয়ার বিষয়েও চীনের সাথে আলোচনার আশা দেখছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৮ জুলাই বেইজিং পৌঁছাবেন। ৯ জুলাই তিনি সেদেশের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে চুক্তি ও সমঝোতা সই হবে। আগামী ১০ জুলাই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন চীনের পার্লামেন্ট ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অব চায়নার প্রেসিডেন্ট ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চীন সফরে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাচ্ছেন। তারা সেখানে চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে গিয়েছিলেন। ৫ বছর পর আবারও চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।