প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার চীন সফরে যাচ্ছেন। কূটনীতিক আর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন সফরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সফরের লক্ষ্য দেশের উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ এবং ঋণ সহায়তা নিশ্চিত করা।
ভূরাজনীতির তৎকালীন তিক্ত বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধ এবং পরে বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলো না চীন। সেই দেশটিই মুজিবকন্যার শাসনামলে বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় বন্ধু। সরকারের নতুন মেয়াদে প্রথম চীন সফর করছেন শেখ হাসিনা।
দেশের উন্নয়ন এবং অর্থনীতি নিয়ে তার নতুন সরকারের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্যই শেখ হাসিনার চীন সফরটি গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, নেত্রী নতুন সরকার গঠন করেছেন। নতুন সরকারের বিরাট প্রত্যাশা, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা একটা স্মার্ট দেশ হবো। এগুলোর জন্য যে ধরনের বিনিয়োগ দরকার। চীন এই বিনিয়োগের একটা বড় উৎস হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন সফরটি স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশিত এখন অপেক্ষা শুধু প্রাপ্তি তালিকার।
ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলছেন, এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত। সফরের ফলাফল কী হবে তা দেখা দরকার। তবে এটা স্বাভাবিক একটা সফর, অস্বাভাবিক কোনো সফর নয়। যেহেতু এই দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের সম্পর্ক আছে।
এই কূটনীতিক বলছেন এবার বাংলাদেশের প্রত্যাশাটা বেশি কারণ সম্পর্কের সীমানাটাও এখন অনেক বড়।
চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, তারা আমাদের কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদার। সেটা খুব একটা ছোট ব্যাপার নয়।
বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতি, উন্নয়ন এবং বাজারই এদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে চীনের আগ্রহ বাড়িয়েছে বলছেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই বিশ্লেষক বলেন, আমরা যখন ভূরাজনীতির কথা বলি সবসময় আঞ্চলিক সংঘাতের রাজনীতির কথা মনে হয়। কিন্তু আঞ্চলিক সহযোগিতার রাজনীতিও হতে পারে। তার অনেক উদাহরণ আছে।
তবে বেইজিং-ঢাকা সম্পর্ককে তথাকথিত ভারসাম্যের কূটনীতির সংজ্ঞায় ফেলতে চান না চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত।
মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, অনেকেই একটা ভারসম্যের কথা বলেন। আমি মনে করি, সারাক্ষণ ভারসম্যের কথা চিন্তা করা ঠিক না। জাতীয় স্বার্থে যেটা আমাদের সবচেয়ে প্রয়োজন এবং সবচেয়ে ভালো শর্তে যার কাছ থেকে পাবো, সেই বিশেষ প্রকল্প তাদের সহযোগিতায় করবো। সেভাবে যদি আমরা করি তাহলে একটা ভারসাম্য এমনিই তৈরি হবে। ভারসাম্য নিজে থেকেই তৈরি হবে।
সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীও মনে করেন চীনের সাথে সম্পর্ক নিরাপদ ও লাভজনক।
ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীনের সাহায্যের মধ্যে সুবিধা আছে। তারা রাজনৈতিকভাবে চাপ দেয় না। কাজের জন্য টাকা দেয় এবং কাজ করে।