‘করোনা রোধে যে প্রক্রিয়ায় লকডাউন প্রয়োজন ছিলো তা হয়ে ওঠেনি’

এত সংক্রমণ আর এত মৃত্যুর ভীড়ে ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া কঠোর লকডাউনে আবারও প্রহসন। পহেলা আগস্ট থেকে খোলা থাকবে গার্মেন্টস কারখানা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন , করোনা সংক্রমণ উর্ব্ধগতি রোধের জন্য যে প্রক্রিয়ায় লকডাউন প্রয়োজন ছিলো তা কখনোই হয়ে ওঠেনি, তাই কোন সুফলও মিলছে না। বরং এই শিথিলতার কারণেই সময় বৃদ্ধি হচ্ছে ফলে শ্যাম আর কূল কোনটাই রাখা যা্চ্ছে না। স্বাস্থ্য আর অর্থনীতি দুইই বিপর্যস্থ হচ্ছে লকডাউনের শিথিলতার কারণে। 

চলতি বছর করোনার ভয়াবহতা সামাল দিতে শুরুতে আঞ্চলিক লকডাউন কিংবা চলাচলে বিধি নিষেধ শুরু করেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে ১৪ এপ্রিল থেকে সর্বাত্নক লকডাউনে যায় প্রশাসন। কিন্তু লকডাউনেও খোলা থাকে শিল্পকারখানাগুলো। কখনো আবার চলে গণপরিবহনও।

সর্বশেষ পহেলা জুলাই থেকে ১৪ জুলাই কঠোর লকডাউনের ঘোষণা আসে, যদিও ক্লোজিং মৌসুমের দোহাই দিয়ে গার্মেন্টস কারখানা খোলাই থাকে। এরপর আবার ঈদের জন্য ১৫ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত অবাধ হয় মানুষের চলাচল।

কথা ছিলো ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের লকডাউনে অনেক কঠোরতা থাকবে, চামড়া, ওষুধ আর অক্সিজেন কারখানা ছাড়া বন্ধ থাকবে সব শিল্প কারখানা। কিন্তু সাতদিন পার হতে না হতেই পহেলা আগস্ট থেকে গার্মেন্টস কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত। 

এদিকে, দোকান সমিতি আর গণপরিবহনেরও আবেদন তারাই বা আর বসে থাকবেন কেন!

কিন্তু এই দফায় দফায় কঠোরতা আর শিথিলতার লকডাউনে আদৌ কোন প্রভাব কি পড়বে করোনা সংক্রমণের ওপর!

তারা বলছেন শুরুতেই লকডাউন যদি কার্যকরী করা যেতো তবে বার বার সময় বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। মূলত এই শিথিলতার কারণেই জনস্বাস্থ্য আর অর্থনীতি দুটোই হুমকীর মুখে।  

লকডাউন শব্দটাই যখন বাংলাদেশে এসে মর্যাদা হারিয়েছে তখন করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি জানাতে আর মানাতে কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া আর কোন বিকল্পের কথা ভাবতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

একাত্তর/ এনএ