পুলিশ হত্যার মিশনে নামে ছাত্রদল, যুবদল ও শিবির: হারুন

কোটা আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ হত্যার মিশন নিয়ে যুবদল, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা মাঠে নামে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হারুন অর রশীদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের আড়ালে পুলিশকে দুর্বল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা-ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। বিএনপি-জামায়াত অনেকবার গণতান্ত্রিক সরকারকে অবৈধভাবে ক্ষমতাচ্যুত বা দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু পুলিশের কারণে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে এবং এজন্যই তারা এবার পুলিশকেই টার্গেট করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কোটা আন্দোলনের সহিংস রূপ নেয়ার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর এসেছে। আহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা কয়েকশো। নিহতদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মোটরকেডের পাইলটও রয়েছেন।

এর মধ্যে যাত্রাবাড়ীতে দুই পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের ছয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।

এর আগেরদিন বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশ থেকে বলা হয়, দেশে ব্যাপক নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা আসে।

নাশকতায় জড়িত অভিযোগে যুবদল নেতার এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা বলেন, যুবদল নেতা নুরে আলম সিদ্দিকি পিটনকে লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয় যে, পুলিশ মারলে ১০ হাজার এবং ছাত্রলীগ মারলে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হবে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন এদিন সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে আশ্রয় করে পুলিশ হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো যাত্রাবাড়ী এলাকার ছাত্রদল যুবদল ও শিবিরের কর্মীরা।

এদিনের ব্রিফিংয়ে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের একটি তথ্যচিত্র দেখায় ডিবি পুলিশ। সেখানে উঠে আসে কীভাবে যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়ায় পুলিশ সদস্যদের হত্যার পর ফুটওভার ব্রিজের ওপর তাদের মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।

ডিবি পুলিশের হাতে আসা ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্রদল ও যুবদল নেতারা স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন যে, কার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

ডিবি প্রধান হারুন বলেন, পুলিশ হত্যার সাথে সরাসরি জড়িত এমন ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত বাকি অপরাধীদের ধরতেও অভিযান চলছে।

পুলিশকে টার্গেট করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মুখ সারিতেই ছিলো পুলিশ সদস্যরা। তাই পুলিশ সদস্যদের লক্ষ করে হামলা ও হত্যার মধ্য দিয়ে এই বাহিনীর মনোবল ভাঙার পরিকল্পনা ছিলো হত্যাকারীদের।

এদিকে সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে বিভিন্ন নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে ২১০টিরও বেশি মামলা। এতে গ্রেপ্তার করা দুই হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।