ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের নতুন এক অধ্যায়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে শপথ নিলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে এই সরকারের নেতৃত্বে থাকছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন আরো ১৬ জন।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।
প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টারা শপথ নেওয়ার আগে সম্প্রতি আন্দোলনে শহীদদের স্মরনে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
এরপর, প্রথমে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরে গোপনীয়তার শপথ নেন ড. ইউনূস। শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাকে অভিনন্দন জানান।
এরপর ১৬ উপদেষ্টার নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১৩ জনকে একসঙ্গে রাষ্ট্রপতি শপথ পড়ান। শপথ নেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী শপথ বইতে সই করেন সবাই।
যারা উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক দুই তরুণ নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এই দুইজনে মধ্যে নাহিদের বয়স ২৬, আসিফের ২৫। বাংলাদেশে এত কম বয়সে সরকারের দায়িত্ব পালন করার নজির আর কারো নেই।
১৬ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের চারজন নারী। তারা হলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরজাহান বেগম এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ।
উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল, মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান। শপথ নিয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এএফ হাসান আরিফ, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক নায়েবে আমীর ও সুন্নী দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত আ ফ ম খালিদ হোসেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক, সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় ঢাকার বাইরে থাকায় শপথ নিতে বঙ্গভবনে যেতে পারেনি।