সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, পুলিশ বাহিনী স্বাভাবিক কাজে ফিরলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।
সোমবার বিকেলে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খুব শিগগির পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। পুলিশ বাহিনী যখন আবার সুন্দরভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে, তখন আমরা সেনানিবাসে ফেরত যাবো। শেষ রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত ৯০ শতাংশের ওপরে থানাগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। আর ঢাকায় ৮৫ শতাংশের বেশি থানায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশাব্যঞ্জক।
তিনি আরও বলেন, সকলের সহযোগিতায় আমরা দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই। তবে যারা অপকর্ম করেছে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, সেনাপ্রধান খুলনার বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন, খুলনা মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পরে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সাংবাদিকদের বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি আশাব্যঞ্জক। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে সব নিয়মিত বাহিনী সন্ত্রাস দমনে অভিযান পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, সবাইকে সহিংসতা পরিহার করতে হবে। তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। মিছিল হবে, মিটিং হবে; রাজনীতি থাকবে। সেখানে মানুষ কথা বলবে। সেটি যেন ধংসাত্মক না হয়। রাজনীতিবিদরা যেন জনগণের জন্য কাজ করেন। তারা নিশ্চয় জনগণের মনোভাব বুঝবেন।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দেশে অরাজক একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী নামানো হয়। ৫ আগস্ট ও তার পরবর্তী সময় আরও একটু ভিন্ন। এখানে অনেক ধরনের অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীর ওপর আক্রমণ হয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা দুই লাখ। এত বড়সংখ্যক পুলিশ বাহিনী যখন অকার্যকর হয়ে গিয়েছিলো, তখন এটাকে কার্যকর করা সেনাবাহিনীর জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছিল। তবে আমরা আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে সুন্দরভাবে এই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। আমরা পুলিশ বাহিনীকে প্রটেকশন দিচ্ছি।
সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, খুলনা বিভাগের পরিস্থিতিও ভালো রয়েছে। তবে আত্মতুষ্টির কারণ নেই। আমাদের আরও কাজ করে যেতে হবে। পুলিশকে সংগঠিত হতে হবে। সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। পুলিশবাহিনী কাজ শুরু করলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে সেনাপ্রধান বলেন, এ পর্যন্ত ২০টি জেলায় ৩০টির মতো সংখ্যালঘুবিষয়ক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই লুটপাট ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ; যার অধিকাংশই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট।