মৌলিক সংস্কারের পর নির্বাচন আয়োজন: মুহাম্মদ ইউনূস

নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, নিরাপত্তা বাহিনী, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক সংস্কারের পর দেশের নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

মঙ্গলবার ঢাকায়  হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মিশন প্রধানদের নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, নিরাপত্তা বাহিনী ও গণমাধ্যমে মৌলিক সংস্কার এনে আমরা অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব। জাতীয় পুন-একত্রিকরণের ক্ষেত্রে আন্তরিক প্রচেষ্টা আমরা চালাবো। 

আর সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারা ফেরাতে জোরালো ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার করার ওপর জোর দিয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস। বলেন, তার সরকার দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার দেবে। 

তিনি বলেন, আমি এমন এক সময়ে একটা দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যা অনেক দিক থেকে পুরোপুরি বিশৃঙ্খল। ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্র দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিচার বিভাগ ধসে গেছে। দেড় দশক ধরে ভয়াবহ দমন-পীড়নের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা হয়েছে। নির্লজ্জভাবে নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগ ছাড়াই বেড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মদদে ব্যাংকগুলো ডাকাতি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে লুট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থনে চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আওতায় সব ধরনের বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশ মেনে চলবে।