একুশে পদক পাওয়া লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে লন্ডনের কুইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাংলাদেশের ইতিহাস, সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা, সাহিত্য ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবগুলো দিক নিয়ে গোলাম মুরশিদের পাণ্ডিত্য সুবিদিত।
১৯৩৯ সালের ৮ এপ্রিল বরিশাল জেলার ধামুরা গ্রামে গোলাম মুরশিদের জন্ম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ থেকে ১৯৭৭ সালে পিএইচডি করেন তিনি। গবেষণাকর্মটি ১৯৮৪ সালে ‘হিন্দু সমাজ সংস্কার আন্দোলন ও বাংলা নাটক’ নামে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়।
গোলাম মুরশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে প্রায় দুই দশক তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনের বিবিসি বাংলা বিভাগে কাজ করেছেন। এ ছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে লন্ডনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণা করেছেন। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী ছিলেন।
পিএইচডি করার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক শিবনারায়ণ রায়ের অধীনে তিনি পোস্ট ডক্টরাল কাজের সুযোগ পান। ১৯৮৩ সালে রাজশাহী থেকে- Reluctant Debutante: Response of Bengali Women to Modernization নামে গবেষণাকর্মটি প্রকাশিত হয়।
এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে বইটির একটি বাংলা সংস্করণ ঢাকার বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশ পায়। নাম দেওয়া হয়: ‘সংকোচের বিহ্বলতা: আধুনিকতার অভিঘাতে বঙ্গরমণী’। ২০১৬ সালে এর একটি সংস্করণ প্রকাশ করে ঢাকার একটি প্রকাশনা সংস্থা।
গোলাম মুরশিদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কালান্তরে বাংলা গদ্য, যখন পলাতক, আশার ছলনে ভুলি এবং বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনার আদি-পর্ব, আঠারো শতকের গদ্য: ইতিহাস ও সংকলন, বিদ্রোহী রণক্লান্ত ইত্যাদি।
প্রবন্ধ সাহিত্যের জন্য গোলাম মুরশিদ ১৯৮২ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য সরকার ২০২১ সালে তাকে একুশে পদকে দেয়।
গোলাম মুরশিদ কখনো ‘হাসান মুরশিদ’ ছদ্মনামেও লিখতেন। বাংলা একাডেমি থেকে তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ‘বিবর্তনমূলক বাংলা অভিধান’।