ভারতে শেখ হাসিনা কী স্ট্যাটাসে আছেন, জানে না সরকার

বিশেষ সুবিধার লাল রংয়ের পাসপোর্ট বাতিল হবার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে ঠিক কোন স্ট্যাটাস নিয়ে অবস্থান করছেন, তা সম্পর্কে অবগত নয় সরকার। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, এই বিষয়ে নয়াদিল্লীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।

রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতে শেখ হাসিনার থাকার স্ট্যাটাসটা কী? তিনি সে দেশে কী হিসেবে থাকছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, লাল পাসপোর্ট অটোমেটিক্যালি বাতিল হয়েছে। ভারতকে জিজ্ঞেস করুন, কোন স্ট্যাটাসে তিনি সেখানে আছেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইলে দিতে হবে- বলে গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ফেরত চাইলে দিতে হবে- সেটি মিন করিনি। বলেছি, যদি লিগ্যাল প্রশ্ন আসে, আমরা তো ফেরত চাইতেই পারি। যদি আইন-আদালত আমাদের বলে, তাকে ফেরত আনার জন্য, তখন সে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

দিতেই হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ভারত ফেরত দেবে কি না, সেটি তাদের বিষয়। চুক্তি আছে, চাইলে দিতে পারার কথা। এখানে লিগ্যাল প্রসেস থাকে। আমি জানি না, সেটি কীভাবে হবে। যদি লিগ্যাল সিস্টেম চায়, তাকে ফেরত আনতে হবে, তাহলে অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব।

বাংলা‌দে‌শে ভারতীয় প্রকল্প প্রস‌ঙ্গে তৌ‌হিদ হো‌সেন ব‌লেন, চলমান প্রকল্পগুলো তো আমাদের শেষ করতে হবে। বাংলা‌দে‌শে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈ‌রি হ‌য়ে‌ছে। সেজন্য ভারতীয়‌দের মধ্যে এক ধর‌নের আতঙ্ক আছে। বিষয়‌টি নি‌য়ে পররাষ্ট্র উপ‌দেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হ‌লে তি‌নি ব‌লেন, এক ধরনের ভীতির মধ্যে আছেন, সেটি না ব‌লে আতঙ্ক বলি। সেই ভীতি থেকে আশা করি তারা বেরি‌য়ে আসতে পারবেন।

ভারতের সঙ্গে হওয়া বিগত সরকা‌রের সবশেষ সময়ে করা সম‌ঝোতা স্মারক এই সরকার পুনর্বিবেচনা করবে কি না, জানতে চাইলে তৌ‌হিদ হো‌সেন ব‌লেন, এমওইউ চূড়ান্ত চুক্তি না। কাজেই এখানে আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কি না, সেটি তো আমরা দেখতেই পারি। স্বার্থ রক্ষা করে যা করা দরকার আমরা করব।

এদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯ তম অধিবেশনে যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে নিউইয়র্ক যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। সে সময় বেশ কিছু রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সাথে বৈঠক হতে পারে প্রধান উপদেষ্টার এমনটাও জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।