গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনাকে থাকতে হবে: রিজওয়ানা

গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তবে কোন পদ্ধতিতে তার প্রত্যর্পণ হবে সেটা আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সভার পর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, আমাদের অবস্থানটা স্পষ্ট। গণহত্যার যে অভিযোগটা রয়েছে তার বিচারের স্বার্থে এবং নির্যাতন-নিপীড়নসহ সর্বোপরি একটি ফ্যাসীবাদী ব্যবস্থার মুখপাত্র হিসেবে বিচারের প্রক্রিয়ায় তাকে থাকতে হবে। কারণ, দায়দায়িত্ব এখানে একটা ব্যাপার আছে। সেই প্রত্যাবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সেই প্রত্যাবর্তনটা কোন প্রক্রিয়ায় হবে, দুই দেশের মধ্যে কীভাবে কথা হবে, সেই প্রক্রিয়া– এগুলো পরের ব্যাপার। যখন আইনি প্রসেসটা শুরু হবে তখন এগুলো আমরা দেখবো।

সম্প্রতি জার্মানি সফরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে। ভারত কি এমন অনুরোধ বিবেচনা করবে?

উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয়েছে। আমরা স্পষ্টতই এই সরকারের সঙ্গে কাজ করছি। এটি আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে করি, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নয়।

ভারতের বিভিন্ন পর্যায় থেকে নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্নের বিষয়ে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নেতিবাচক বিভিন্ন মন্তব্য রয়েছে। আমরা গত ১৫ বছর বেশিরভাগ মানুষই এ দেশে ছিলাম। সেই বাস্তবতাটা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আমাদের চেষ্টা হবে আমাদের পাশের দেশসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখা। তবে সেটা হতে হবে ন্যায্যতা আর সমতার ভিত্তিতে। এটা বার বার স্পষ্ট করা হচ্ছে। এখানে কোনো নতজানু নীতি নেই। যেটা আমাদের অধিকার, আমাদের প্রাপ্য এবং যেটা আমাদের বিবেচনায় সঠিক সেই কথাগুলো যে যে চ্যানেলে আমাদের বলা দরকার, তা সেটা কূটনৈতিক হোক, রাজনৈতিক হোক বা ব্যক্তিগত বা আন্তর্জাতিক হোক আমরা সেটা বলবো।