চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যু স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর জুড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। শয্যা সংকট বা শিরায় দেওয়ার স্যালাইনের ঘাটতি নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পুরো বছরে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও ভর্তি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকার বিষয়টি চিকিৎসকদের বিস্মিত করলেও তারা জানাচ্ছেন, রোগী কমলেও ভাইরাসের চরিত্র বদলের কারণে ডেঙ্গু রোগ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। আক্রান্তদের অনেকেই খুব দ্রুত শঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে চলে যাচ্ছে।
রাজধানীর শ্যামলী শিশু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি আছে ৪০ জন। রোগীর সংখ্যাটা এখনও এই ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতার মধ্যেই আছে। কর্তৃপক্ষ বলছে গেলো জানুয়ারি থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত শিশু হাপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় ৫০০ জন। যা আগের বছর ছিলো অন্তত দুই হাজার জন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, রোগী বাড়ার হার এখনও নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, আক্রান্তদের অনেকেই খুব দ্রুত শঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে চলে যাচ্ছে। সারা শরীরে ব্যাথা, ফুসফুস ও পেটে পানি জমার মতো নানা রকম উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালেও এবার রোগীর সংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর জুড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী কিছুটা বাড়লেও হারটা স্থিতিশীল। অক্টোবরে গড়ে প্রতিদিন রোগী ভর্তির হার ছিলো ১১০ থেকে ১৩০ জন। তবে এটিকে অন্য বছরের তুলনায় তিন এক ভাগ বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বড়দের ক্ষেত্রে অন্য রোগে ভোগা রোগীরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানালেন ডাক্তাররা।
ডেঙ্গুর অন্যতম হটস্পট পুরনো ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে অক্টোবর জুড়ে দৈনিক রোগী ভর্তি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ জন। এটিও আগের বছরের তুলনায় অনেকটা কম। তবে রোগীদের এবার রোগীদের পেটে ব্যাথা ও পেটে পানি জমার লক্ষণকে ঝুকিপূর্ণ বলছেন ডাক্তাররা।
রাজধানীর হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে গেল বছরের তুলনায় এবার তিন ভাগের একভাগ রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। তবে অনেক রোগীই হাসপাতালে না এসে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জটিল পরিস্থিতি তৈরী হবার আগেই এসব রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেবার পরামর্শ দিচ্ছেন ডাক্তাররা।