ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেও ফ্যাসিবাদের দোসরদের শেকড় অনেক গভীরে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দলীয় নেতাদের দায়িত্ব পালন করেছে বিগত সরকারের কিছু কিছু প্রশাসন। তাই প্রশাসনের দলীয় দাসত্ব থেকে বের হতে সবার মতামত প্রয়োজন। অনেক অফিসের কেরানীও তাদের দোসর।
শুক্রবার বিকেলে, অফিসার্স ক্লাবে গণঅভ্যুত্থানের তিন মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে অফিসার্স ক্লাবের ভাইস-চেয়ারম্যান এম এ রাজেক সভাপতিত্ব সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব এস এম জহরুল ইসলাম, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দেশের রাজনীতিতে একটা বড় পরিবর্ত হয়েছে। একটি জনগোষ্ঠী দেশ সংস্কারের জন্য, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য জীবন দিয়েছে। তাদের পরিবার এবং যারা রাজপথে এসেছিল তারা এখন রাজনীতি সচেতন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, কিছুদিন যাবত সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যেগুলো এই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট ছিলো, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমরা দেখছি রাজনৈতিক কিছু কিছু শক্তি সেগুলো বিরোধিতা করছে। তারা তারুণ্যের স্পিরিটকে ধারণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গণমাধ্যমে যখন তাদের বক্তব্যগুলো দেখি, তখন আমার মনে হয় এই তারুণ্যের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সময় হয়েছে।
যারা রাজপথে এসে জীবন দিয়েছে তাদের তারুণ্যের শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে হবে উল্লেখ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, যারা হাত হারিয়েছে, পা হারিয়েছে, আহত হয়েছে, তাদের আকাঙ্ক্ষাকে এই রাজনৈতিক দলগুলো ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমি আসঙ্কা করছি, এই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ২৪-কে ধারণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এই ২৪-এর প্রজন্মই বিনির্মাণ করবে। এই ২৪-এর প্রজন্মকে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব দিতে হবে।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা এখানে বসতে পারছি, কথা বলতে পারছি। দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ফেসবুকে একটা পোস্ট দিতে গেলে এখন আর বারবার ভাবতে হচ্ছে না, ব্যাকস্পেস দিয়ে কেটে দিতে হচ্ছে না। আমরা ভয়হীনভাবে আলোচনা-সমালোচনা করতে পারছি। রাষ্ট্র পুনর্গঠনে নিজেদের মতামত দিতে পারছি। সংস্কার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা নতুনভাবে স্বপ্ন দেখছি দেশের মানুষকে নিয়ে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার। আমরা সব ধরনের ফ্যাসিবাদীদের উপকরণ মুছে ফেলার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছি। শুধু ২৪ জন উপদেষ্টা এবং একজন প্রধান উপদেষ্টাই কিন্তু সরকার না। আপনারাও সরকারের অন্যতম অংশ। আমাদের কাজ হচ্ছে পলিসিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর বাস্তবায়নের কাজ হচ্ছে মূলত আপনাদের।
বিগত সময়ে যে ফ্যাসিবাদী সরকার ছিল, তাদের পলিসিগুলোই ছিল গণবিরোধী, গণতন্ত্র হত্যাকারী এবং মানুষের জীবন নেওয়ার মতো পলিসি ডিসিশন তারা দিয়েছে এবং প্রশাসনে থাকা তাদের দোসররা সেগুলো বাস্তবায়ন করেছে।
অফিসার্স ক্লাবে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেটি কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে আপনারা মতামত দেবেন। কীভাবে সংস্কার করলে বা কাঠামোগত পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে আর কখনও প্রশাসনে এতটা দলীয়করণ সম্ভব হবে না, ভবিষ্যতে এতটা দলদাসের মতো কার্যক্রম হবে না, জনবিরোধী অবস্থান নেবে না, সেটি নিশ্চিত করার জন্য আপনাদের মতামত দেবেন।