প্রয়োজনে পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে বিদেশি সহযোগিতা

বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি আইনজীবীদের সহযোগিতা চাইবে কমিশন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিলো কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনে বিদেশেও তদন্ত করতে চান কমিশন প্রধান বিজিবি’র সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমান। 

২০০৯ সালে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞে শহীদ হন ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন। এই দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। জানা যায়নি হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর পেছনের ক্রীড়ানকদের। শহীদদের পরিবার বারবার প্রকৃত তদন্তের দাবি জানালেও তা উপেক্ষিত ছিলো। 

৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্তের দাবিতে সরব হয়ে উঠেছেন সেদিনের শহীদ পরিবারের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, পিলখানা ঘটনার ১৫ বছর পেরিয়ে যাবার পর পুনরায় তদন্তের দাবি আসছে বিভিন্ন তরফ থেকে। তৎকালীন সেনাপ্রধানও একই দাবি তুলেছেন।

সেনাবাহিনী ও তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের পরিবারগুলোর অনেকে ঘটনাটিকে ‘বিডিআর বিদ্রোহ’ বলতে চান না। তাদের মতে পুরো বিষয়টিই ছিলো পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। এই ষড়যন্ত্রের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি আসছে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ভারতের নাম।

এই পরিস্থিতিতে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র উন্মোচন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও এর সাথে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে গঠিত হয়েছে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন। সাত সদস্যের এই কমিশনের প্রধান করা হয়েছে বিজিবির সাবেক মহাপরিচালক আ ল ম ফজলুর রহমানকে।

কমিশনের বাকি সদস্যরা হলেন- মেজর জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) সাইদুর রহমান, যুগ্মসচিব (অব) মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, এনডিসি ডিআইজি (অব) ড. এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ খান চন্দন। 

দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কলঙ্কজনক এই ঘটনার তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেবেন, পাঁচ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের পালিয়ে যাওয়ার কারণে তদন্তে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, এসবের বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশন প্রধান এ এল এম ফজলুর রহমান। 

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে কি কি গাফিলতি ছিলো; কাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে কিনা, ঘটনার আগে পরে পিলখানার সার্বিক কর্মকাণ্ড; সবই তদন্তের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি। বিদেশি ষড়যন্ত্রের সন্দেহ থাকায় তদন্তের প্রয়োজনে বিদেশ সফর বা বিদেশি আইনজীবীর সহযোগিতা নেওয়ার কথাও ভাবছেন কমিশন প্রধান। 

ন্যায় বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্য নিরপেক্ষ তদন্তকেই অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করছেন তিনি। তবে এতোবড় ঘটনার তদন্তে মাত্র তিনমাস সময়কে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না এ এল এম ফজলুর রহমান। তদন্তকালীন সময় কমিশন সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তদন্ত কমিশনের প্রধান।