রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘ মহাসচিবের সফর যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ

বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সহায়তা তহবিল সংগ্রহ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সঙ্কট সমাধানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলছেন বিশ্লেষকরা। তবে, বাংলাদেশে আর একজনও রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার সুযোগ নেই- বিষয়টি এ সফরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়া উচিত হবে বলেও মনে করছেন তারা। 

যদিও গত অক্টোবরে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারে দুর্ভিক্ষ এবং বাংলাদেশে আবারও বাকিদের চলে আসার শঙ্কার কথা জানিয়ে কক্সবাজার হয়ে রাখাইনে সহায়তা পাঠাতে চাচ্ছে জাতিসংঘ। এ চাওয়া পূরণ দেশের স্বার্থের জন্য কতটুকু উপকারিতা নিয়ে দুই ধরনের মত বিশেষজ্ঞদের। 

গত অক্টোবরে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে ১২ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চ কিংবা এপ্রিলের মধ্যে রাখাইনে দুর্ভিক্ষ আঘাত হানতে পারে। এ অবস্থায় জাতিসংঘ চায় কক্সবাজার হয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে তাদের সহায়তা দিতে।

কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১২ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ে বিপদে আছে বাংলাদেশ। এরপর রাখাইনে দুর্ভিক্ষের কারণে ত্রাণ ঠিকভাবে পাওয়ার আশায় আরও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর ২০ লাখ রাখাইনবাসী বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে ধাক্কা খাবে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি।

এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার চার দিনের সফরে আসছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। প্রধান উপদেষ্টার সাথে কক্সবাজার আশ্রয় শিবিরও পরিদর্শন করবেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ দিয়ে ত্রাণের চালান পাঠানো নিয়ে সরকারের অবস্থান কি হবে- সেটা বাংলাদেশের স্বার্থ ও ঝুঁকি মাথায় রেখেই ঠিক করা উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তারা জানান, বাংলাদেশে এসে রোহিঙ্গারা এরই মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে; জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির বিবেচনায়। রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া থমকে আছে, দিন দিন কমছে ইউএসএইড, ইউএনএইচসিআরসহ নানা আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিল। 

তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমারেই সমাধান খুঁজতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ ধরে রাখতে ও তহবিল আদায়ে তার এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। 

জাতিসংঘকে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর কাতারের দোহায় হতে পারে আয়োজন। এ সফরে সেই আয়োজন নিয়েও আছে আলোচনার সুযোগ।

১৩ মার্চ বিকেলে ঢাকা পৌঁছে পরদিন ১৪ মার্চ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষ করে জাতিসংঘ মহাসচিব যাবেন কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এর মধ্যে শুক্রবার সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার করবেন গুতেরেস ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গুতেরস সেইদিন রোহিঙ্গা শিবিরে চলে যাবেন। একই সঙ্গে কক্সবাজারে যাবেন প্রধান উপদেষ্টা। তবে, কক্সবাজারে প্রধান উপদেষ্টার আলাদা কর্মসূচি আছে। আর জাতিসংঘের মহাসচিব কক্সবাজার থেকে সরাসরি রোহিঙ্গাশিবিরে চলে যাবেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে তাঁর কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতার করবেন। আর প্রধান উপদেষ্টা তাঁর কক্সবাজারের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে এই ইফতারে অংশ নেবেন।