ইসি-ইইউ’র অভিন্ন লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কারকে সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন- ইইউ। পাশাপাশি বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন দেখতে চায় তারা। রোববার সকালে সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর ইইউ দূত মাইকেল মিলার এসব কথা জানান। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ভুলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায় কমিশন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে যাতায়াত বেড়েছে আন্তর্জাতিক দাতা দেশ ও উন্নয়ন সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের। গত সপ্তাহে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের পর রোববার ইইউ'র রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে ইইউর প্রতিনিধিদল। এই বৈঠকে তারা ইসিকে সহায়তার প্রস্তাব দেয়।

বৈঠক শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণে পাশে আছে ইইউ। অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সংস্থাটি সমর্থন করে জানিয়ে মিলার বলেন, আগামীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন দেখতে চান তারা।

ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি ইসিকে জানিয়েছেন, ইইউ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করবে। উল্লেখযোগ্য আর্থিক প্যাকেজের পাশাপাশি ইইউ তার অভিজ্ঞতা ও এক্সপার্টিজ (দক্ষতা) প্রদানের মাধ্যমে এই কাজ করবে বলে তিনি জানান।

বৈঠক শেষে সিইসি নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ইইউর প্রতিনিধিদল নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। ইসির বাজেট সম্পর্কে জানতে চেয়েছে। ইসি বলেছে, টাকাপয়সার সমস্যা নেই। সরকারের কাছে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে ইসিকে সাহায্য করতে চায় ইইউ। ইসির কী কী প্রয়োজন, তা তারা জানতে চেয়েছে। তারা বলেছে, নির্বাচনের জন্য যে ধরনের সাহায্য প্রয়োজন, তা করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, তিনি নির্বাচনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ, ভোটার এডুকেশন (ভোটার শিক্ষণ) ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে বলেছেন। ইইউ সর্বতোভাবে সহায়তা করতে রাজি আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, ইইউ আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন দেখতে চায়। তারা অবাধ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। নির্বাচন কমিশনও এমন নির্বাচনই চায়। এ জন্য ইসি স্বচ্ছভাবে কাজ করছে। কোনো কিছু লুকিয়ে বা ছাপিয়ে রাখা হচ্ছে না।