জাতীয় কবির ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ। সারাদেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হবে দিনটি।

১৮৯৯ সালের ২৫ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ) অবিভক্ত বাংলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম 'দুখু মিয়া'।

খুব ছোট বয়সেই নজরুল গ্রামের স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। ১৯০৮ সালে তার বয়স যখন মাত্র ৯ বছর তখন তার পিতার মৃত্যু হয়। এরপর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। এ সময় মক্তবে শিক্ষকতা শুরু করেন তিনি। লেটো গানের দলেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড়ে কাজী নজরুল ইসলাম।

১৯১৭ সালের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান। তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন।

সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন। এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিলো। কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর যাননি। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয়। এরপর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেন।

কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন। এখান থেকেই তার সাহিত্য-সাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে নজরুল ছিলেন সবচেয়ে সরব। বহুবার ব্রিটিশ শাসকের কোপানলে পড়ে কারারুদ্ধও হয়েছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবির সমাধি।

১৯২২ সালে প্রকাশ করেন ধূমকেতু পত্রিকা। ‌'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতার জন্য নজরুলকে দেয়া হয় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। মাত্র ২২ বছর ব্যাপ্তির লেখক জীবনে রচনা প্রায় চার হাজার গান, অসংখ্য কবিতা, ছোটগল্প আর উপন্যাস। সাহিত্যের পাশাপাশি করেছেন সংগীত ও চলচ্চিত্র পরিচালন, এমন কী অভিনয়ও। বর্ণাঢ্য জীবনে জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়।

১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর সাবেক পিজি হাসপাতাল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ বিদ্রোহী সত্ত্বা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের কবিতা-গান-চিন্তা সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলো।   

এদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে প্রেম, দ্রোহ আর মানবতার কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়।

কর্মসূচি

বাসস জানিয়েছে, জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ২৫, ২৬ ও ২৭ মে কুমিল্লায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বেলা তিনটায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মো. লতিফুল ইসলাম শিবলী এবং কবির পৌত্রী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী।

স্মারক বক্তৃতা করবেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান এবং স্বাগত বক্তৃতা করবেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার। 

অনুষ্ঠানে ‘নজরুল পুরস্কার ২০২৩ ও ২০২৪’-এর জন্য মনোনীত গুণীজনদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘চেতনা ও জাগরণে নজরুল’ শীর্ষক অনুষ্ঠান।