জেল থেকে পালানো ৯ জঙ্গিসহ ৭০০ বন্দি ধরা পড়েনি: কারা অধিদপ্তর

গেলো বছর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জেলখানা থেকে দুই হাজার ২০০ বন্দি পালিয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু ধরা পড়লেও এখনও ৯ জঙ্গিসহ ৭০০ জেল পলাতক ধরা পড়েনি। এছাড়া, লুট হওয়া ২৮টি অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার কারা সদর দপ্তরে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট ২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই হাজার দুই শতাধিকের অধিক পলাতকের মধ্যে এখনও ৭০০ জনের বেশি পলাতক রয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জন জঙ্গি আছেন।

লুট হওয়া অস্ত্র প্রসঙ্গে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, লুট হওয়া ২৮টি অস্ত্র উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কারা অধিদপ্তর কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন্দি সহায়ক পরিবেশ ফেরাতে কাজ হচ্ছে। বন্দিদের উৎপাদমুখী করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধারণ ক্ষমতার অধিক বন্দি থাকায় নতুন ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে বন্দিদের জন্য কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারাগার থেকে বন্দিরাও মাঝে মাঝে কারা মহাপরিদর্শককে ফোন করে থাকেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন জানান, কারাগারকে শুধু বন্দিদের আটকে রাখা নয়, বরং একটি সংশোধন ও পুনর্বাসনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এ জন্য জেল বিভাগের নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’ রাখার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ জন্য কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট ২০২৫-এর খসড়া তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে কারা ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা আনা হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।