শাপলা চত্বরের গণহত্যার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
বুধবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকার ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এসময় রফিকুল আবরার বলেন, ধর্ম শিক্ষাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা হচ্ছে, যাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দেশের জন্য অবদান রাখতে পারে।
উপদেষ্টা বলেন, অতীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সমাজের মহৎ ও ধনী ব্যক্তিদের বড় রকমের ভূমিকা ছিলো। এলাকাবাসী মিলেও স্কুলের উন্নয়নে অনেক কাজ করতেন। পরবর্তীতে রাজনীতির যে দুষ্টচক্র, তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিয়ে নেয়। এ দখলের কারণে যারা সমাজসেবার কাজ করতেন; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজ উদ্যোগে কাজ করতেন; তারা নিরুৎসাহিত হয়েছেন। শিক্ষার উন্নয়নকাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। তারা আর এগুলোতে জড়িয়ে ঝামেলায় পড়তে চান না। ফলে সব দায়ভার শুধু সরকারের কাঁধে পড়েছে।
অ্যালামনাইরাও নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক এড়িয়ে চলার পরিস্থিতিতে পড়েন উল্লেখ করে অধ্যাপক সিআর আবরার বলেন, একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে যারা চলে যান, তারা বিভিন্ন ভালো জায়গায় চাকরি করেন; কিংবা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল; তারাও কিন্তু অ্যালামনাই হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতেন। কিন্তু ওই যে রাজনৈতিক দুষ্টচক্রের দখলের কারণে তারাও নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় রকমের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের হাতে। তারাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে কুক্ষিগত করে ফেলেছেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সি আর আবরার বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা অবশ্যই মাদ্রাসাশিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু থাকবে। তবে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়াতে আধুনিক শিক্ষার উপাদানগুলো সংযোজন করতে হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সমাজে বিভেদ নয়, সহমর্মিতা ও যুক্তিবাদী চিন্তাই আমাদের পথপ্রদর্শক হবে। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করে আমরা উন্নত ও কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজে অবদান রাখতে পারবো।