বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে একথা জানান। বাংলাদেশ একে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের পরিপন্থী এবং একপাক্ষিক বর্ণনা হিসেবে অভিহিত করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহবুবুল আলম বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন ঘটায় না। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, বিচ্ছিন্ন কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসেবে চিত্রিত করার অপচেষ্টা চলছে। এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা বাংলাদেশ-বিরোধী মনোভাব প্রচারের একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, কিছু মহল ইচ্ছা করেই ভারতের সাধারণ মানুষকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল রাজবাড়ীতে অমৃত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এর জবাবে বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে যে, এই ঘটনাটি কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক ছিল না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহবুবুল আলমের ভাষায়, যাকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তিনি একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী ছিলেন। জনৈক মুসলিম সহযোগীর সঙ্গে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার পিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই অপরাধমূলক ঘটনাকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের চশমায় দেখা তথ্যগতভাবে ভুল এবং অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর।
রাজবাড়ীর এই ঘটনাটি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও একটি বিবৃতি দেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে সেখানে জানানো হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট এলাকায় চাঁদা দাবির উদ্দেশ্যে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও ছিল। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার ভারতের বিভিন্ন মহলকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের অপপ্রচার দুই দেশের সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের চেতনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, বাংলাদেশ সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যে কোনো অপরাধকে কেবল অপরাধ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ে নয়।