নির্বাচনী দৌড়ে এবারও এগিয়ে ব্যবসায়ী নেতারা

গেলো কয়েকবছরের মতো এবারও সংসদে থাকছে ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। অর্থ কিংবা প্রভাবের বিচারে বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলেও গুরুত্বপূর্ণ এসব হেভিওয়েট প্রার্থী। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী থেকে শুরু করে জাতীয় পার্টি কিংবা এনসিপি সবদলেই বড় ভূমিকা রয়েছে কোটিপতিদের। যদিও একেবারেই রিক্তশূন্য ব্যতিক্রমও রয়েছেন কেউ কেউ। ধনী ও গরিবের মিশেলের এই নির্বাচনে তাহলে পাল্লাটা ঝুঁকছে কার দিকে?  

নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকতে জোরালোভাবেই নেমেছেন বেশ কয়েকটি দলের কয়েকশ প্রার্থী। বরাবরের মতো এবারও যাদের আয়-ব্যয় কিংবা সম্পদ নিয়ে শুরু হয়েছে নানামুখী আলোচনা। যদিও, কমিশনে জমা দেয়া খতিয়ান আর বাস্তবতার মধ্যে বড় ফারাক স্পষ্ট গেলো কয়েক বছর ধরে। 

হলফনামা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনেও কোটিপতি প্রার্থীর বেশ কয়েকজন। তবে, পেশায় রাজনীতিক হওয়ার পরও, সম্পদে সবার ওপরে চট্টগ্রাম ৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। হলফনামায় তার মোট সম্পদ ৪৫৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে সম্পদে সবার চেয়ে পিছিয়ে পাবনা-৫ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। হলফনামায় তিনি দেখিয়েছেন ৯৬ লাখ টাকা। 

দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও চব্বিশের আগস্ট পরবর্তীতে রাজনীতিতে প্রকাশ্যে আশা দল জামায়াতে ইসলামীতেও রয়েছেন ডজনেরও বেশি কোটিপতি প্রার্থী। তবে, সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন দলটির ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মো. এনায়েত উল্লাহ। তার রয়েছে মোট ১১৬ কোটি টাকার সম্পদ। বিপরীতে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এই দলে সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন রাজবাড়ী-২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ। তিনি সবমিলিয়ে মাত্র দুই লাখ টাকার মালিক। 

রাজনীতিতে নবীন এনসিপির সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক দলটির ঢাকা ২০ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী প্রকৌশলী নাবিলা তাহসিন। হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ পাঁচ কোটি চার লাখ টাকা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সম্পদের মালিক আরেক প্রার্থী নরসিংদী দুই আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া তুষার সারোয়ার। যার মোট সম্পদ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। 

রাজনীতির মাঠে জনসমর্থন কম থাকলেও অর্থের বিচারে মোটামুটি ভালো অবস্থানেই রয়েছেন সদ্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া নুরুল হক নূর। হলফনামায় তার মোট সম্পদ ৯০ লাখ টাকা। তারচেয়ে লাখ দশেক টাকা কম রয়েছে গণ অধিকার থেকে সদ্য পদত্যাগ করা রাশেদ খানের সম্পদ।