মন্ত্রিসভার সদস্যরা কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন?

সরকারি বেতন-ভাতা, পাইক-পেয়াদা ও সম্মানী বাবদ বছরে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সুবিধা পান মন্ত্রীরা। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীরাও পান ২৫ লাখের ওপরে। থাকে, নিজ এলাকার জন্য বার্ষিক থোক বরাদ্দও। অন্যদিকে, সংসদ সদস্যরা বাড়ির সুবিধা না পেলেও, আমদানি করতে পারেন শুল্কমুক্ত গাড়ি। যদিও, এসব বরাদ্দ নিয়ে সবসময়ই সন্তুষ্ট থাকেন না রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্যক্তিরা।

সরকারি পরিবহন পুলে চলছে গাড়ি প্রস্তুত করার ব্যস্ততা। বছর-দশেকের পুরনো টয়োটা ক্যামরি ও মিতসুবিশি ল্যান্সার মডেলের এসব যানবাহন ব্যবহার করবেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।

সরকারি বিধান অনুযায়ী এসব গাড়ির জন্য প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেল অথবা সমপরিমাণ অর্থ পাবেন তারা। যদিও অতীতে এসব নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল মন্ত্রীদের মধ্যে।

গাড়ি ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা পান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্যক্তি। যেমন, একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। সাথে সুসজ্জিত বাড়ি অথবা ফ্ল্যাট। আর বাড়ি না নিলে সে বাবদ মাসিক ভাতা ৮০ হাজার টাকা। এছাড়া, বাড়ির সাজসজ্জা ও সংস্কারেও বছরে পান প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা।

প্রতিমন্ত্রীর বেতন মন্ত্রীদের চেয়ে খানিকটা কম; ৯২ হাজার টাকা। তবে, সরকারি বাড়িতে না উঠলে ভাতা পান ৭০ হাজার প্রতিমাসে। আর, সাজসজ্জা ও সংস্কারের জন্য বছরে ছয় লাখ টাকার ওপরে। আর একেকজন উপমন্ত্রীর বেতন ৮৬ হাজার ৫শ। আবাসন সুবিধা প্রতিমন্ত্রীর সমান।

এর বাইরে বাসভবনে বিদ্যুৎ,গ্যাস,পানি ও টেলিফোন ব্যয় পুরোটাই বহন করে সরকার। দর্শনার্থী আপ্যায়নে একজন মন্ত্রী পান মাসে ১০ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ ও উপমন্ত্রী পান ৫ হাজার।

বিমান ভ্রমণে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বছরে বিমা সুবিধা ১০ লাখ টাকা। আর কোনো সদস্য অসুস্থ হলে তাঁর চিকিৎসার পুরো খরচ সরকার বহন করে।

দেশের ভেতরে ভ্রমণভাতা ও নিজ এলাকার উন্নয়নে বছরে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা। যার কোনো নিরীক্ষা হয় না।

এদিকে, সংসদ সদস্যের মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। আছে শুল্কমুক্ত একটি গাড়ি আমদানির সুবিধা। পান ঢাকায় প্লট। নির্বাচনী এলাকার যাওয়া-আসার ভাতা মাসে সাড়ে ১২ হাজার, সম্মানী ভাতা পাঁচ হাজার আর মাসিক পরিবহন ভাতা ৭০ হাজার টাকা।

নির্বাচনী এলাকায় অফিস খরচের জন্য প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয় এমপিদের। আর্থিক সুবিধার বাইরে বিভিন্ন কর্মচারি, একান্ত সচিব, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, রাধুনিসহ নানা সুবিধা পান মন্ত্রী-এমপিরা।

এছাড়া লন্ড্রি, ক্রোকারিজ,অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ, এলাকার উন্নয়নসহ নানা ভাতা মিলিয়ে বছরে একেকজন এমপিকে দেয়া হয় আট লাখ টাকার ওপরে। যার পুরোটাই করমুক্ত। এছাড়া প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার সমান চিকিতসা ভাতা পান এমপিরা।