ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিপুল বিজয়ের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ঢাকায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোদীর এই আনুষ্ঠানিক অভিনন্দনপত্রটি হস্তান্তর করেন।
অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। তিনশ’ আসনের জাতীয় সংসদে দুইশ’র বেশি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার নিযুক্তিতে আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তিনি আরও যোগ করেন, আপনার এই উচ্চতর দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে আমি আপনার সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। আপনার এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আপনার নেতৃত্বের ওপর অটুট আস্থা এবং দেশটিকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আপনার যে ভিশন বা দূরদর্শী পরিকল্পনা, তার প্রতি গণরায়ের প্রতিফলন।
দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর, যা আমাদের অভিন্ন ইতিহাস, সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য দুই দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আমাদের নিজ নিজ উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে যে জোরালো মিল রয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আমাদের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে এবং সংযোগ (কানেক্টিভিটি), বাণিজ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য মুখিয়ে আছি।
পারস্পরিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ একে অপরের টেকসই উন্নয়নের অনুঘটক হতে পারে; একে অপরের নিরাপত্তার জন্য কাজ করতে পারে এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
চিঠিতে মোদী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে লেখেন, আমি এই সুযোগে আপনাকে, ডা. জুবাইদা রহমান এবং আপনার কন্যা জাইমাকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ভারতে আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর অপেক্ষায় রইলাম।
সবশেষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত উন্নতি ও সমৃদ্ধি এবং তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করে চিঠিটি শেষ করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ওম বিড়লার উপস্থিতি এবং তারেক রহমানের সাথে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর নতুন সরকারের সাথে ভারতের গঠনমূলক সম্পৃক্ততার একটি বিশেষ ইঙ্গিত। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে, যা কয়েক দশক ধরে চলা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নারী নেতৃত্বাধীন রাজনীতির ধারায় বদল এনেছে।
সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দুস্তান টাইমস