জিয়াউল একজন সিরিয়াল কিলার: সাবেক সেনাপ্রধান

সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও এনটিএমসি-র সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-একে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান, জিয়াউল আহসানের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই তিনি তাঁর পদোন্নতির ঘোর বিরোধী ছিলেন।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে জেরা চলার সময়  ইকবাল করিম ভূঁইয়া জানান, ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসান লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে একটি পদোন্নতি পান। সাবেক সেনাপ্রধানের দাবি অনুযায়ী, জিয়াউল আহসানের প্রয়োজনীয় পেশাদার যোগ্যতা ছিল না।

ছবি সংগৃহীত
তিনি বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে স্টাফ কলেজ করা ছাড়া পদোন্নতি সচরাচর হয় না, কিন্তু তিনি সেই যোগ্যতা অর্জন করেননি। এমনকি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ড করার অভিজ্ঞতাও তাঁর ছিল না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পদোন্নতি বোর্ডের বেশিরভাগ সদস্য নিজস্ব ‘ভবিষ্যৎ স্বার্থ’ চিন্তা করে তাঁকে ভালো কর্মকর্তা সাজিয়ে সুপারিশ করেছিলেন। এমনকি জেনারেল মোমেনকে দিয়ে বোর্ডে জিয়াউলকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উপস্থাপন করালেও বেশিরভাগ সদস্যের চাপে পদোন্নতি ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে এই প্রতিবাদের কারণে জেনারেল মোমেনকে সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ‘ডাম্পিং পোস্টে’ পাঠানো হয়েছিল।

শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন তিনটি প্রধান অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

১. পুবাইল হত্যাকাণ্ড: ২০১১ সালে গাজীপুরের পুবাইলে তাঁর সরাসরি উপস্থিতিতে তিনজনকে হত্যা।

২. বরগুনা গণহত্যা: ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার বলেশ্বর নদ সংলগ্ন এলাকায় নজরুল ইসলাম মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা।

৩. সুন্দরবনে কথিত দস্যু দমন: সুন্দরবন ও শরণখোলা এলাকায় দস্যু দমনের নামে আরও ৫০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ।

ছবি: সংগহীত
১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীতে কমিশন পাওয়া জিয়াউল আহসান র‍্যাব ও এনএসআই-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৬ আগস্ট তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয় এবং ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘আয়নাঘর’ খ্যাত গোপন বন্দিশালায় নির্যাতন এবং প্রায় ৩৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুদক।

বুধবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে আমিনুল গণি টিটো জেরায় অংশ নেন। ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছে।