পবিত্র ঈদুল ফিতর আসতে বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। বাসের যানজট ও দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে অধিকাংশ মানুষ ট্রেনকেই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই স্টেশনে যাত্রীদের ঢল নেমেছে। কেউ পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সময়মতো ট্রেন আসা এবং স্টেশনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে যাত্রীদের চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ দেখা গেছে।
যাত্রীরা বলছেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে পারায় স্টেশনে এসে বাড়তি কোনো ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ের পরপরই ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসছে এবং গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও বিপদমুক্ত করতে এবার কমলাপুর স্টেশনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের প্রবেশমুখে দুই ধাপে টিকিট পরীক্ষা করা হচ্ছে। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর থাকতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। জনপ্রিয় ও জনবহুল রুটগুলোতে নিয়মিত কোচের পাশাপাশি মোট ৪৬টি অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হয়েছে।
এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলে প্রতিদিন গড়ে ৩৬ থেকে ৪২ হাজার বাড়তি যাত্রী ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনগুলো যাতে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে এবং সময়মতো ছাড়তে পারে, সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত রেলের শিডিউল বিপর্যয়ের কোনো বড় অভিযোগ পাওয়া যায়নি।